গাজাবাসীর ভাগ্য ঝুলছে আরব সম্মেলনে

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনে মিসরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। আজ মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি আরব সম্মেলনে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি। গাজার যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ও উপত্যকাটির পুনর্গঠনবিষয়ক আলোচনার জন্য জরুরি এ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরিয়ে ভূখ-টি দখলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আরব দেশগুলো সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাবের পাল্টা জবাব হিসেবে মিসর ফিলিস্তিনিদের রেখেই গাজা পুনর্গঠনে পরিকল্পনা বানানোর কাজে হাত দেয়।

রবিবার আবদেলাতি জানান, মিসর তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তহবিল চাইবে। তিনি গাজার পুনর্গঠনের অর্থায়নে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার দুবরাভকা সুইকার সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আরব সম্মেলনে পরিকল্পনাটি গৃহীত হলে আমরা বড় বড় দাতা দেশের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা শুরু করব। মঙ্গলবারের সম্মেলনের পর ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর জোট ওআইসির সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরিকল্পনাটি কীভাবে উপস্থাপন করবে, তা নিয়ে আলোচনার কথা জানান তিনি।

এদিকে গাজা উপত্যকায় সব ধরনের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রবেশ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছে কয়েকটি আরব রাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। মিসর ও কাতার গত রবিবার ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এটিকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযুক্ত করেছে। আবদেলাতি বলেছেন, সবাইকে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে মানবিক সহায়তাকে ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরায়েলের এ পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সৌদি আরবও।

জাতিসংঘের ত্রাণসহায়তাবিষয়ক প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী আমাদের প্রাণরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে। রবিবার সকাল পর্যন্ত গাজায় কোনো মানবিক সহায়তার ট্রাক প্রবেশ করতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।