রাখাইনে জান্তার নৌঘাঁটিতে আরাকান আর্মির হামলা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী বন্দরনগরী কায়াকফিউকে হামলা চালিয়েছে। এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানায়, জান্তা বাহিনীর নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি এ হামলা চালায়।

স্থানীয়রা বলছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি আরাকান আর্মি দান্যাওয়াদ্দি নৌঘাঁটিতে হামলা শুরু করে এবং একই সঙ্গে আশপাশের সামরিক চৌকি ও একটি পুলিশ ব্যাটালিয়নেও হামলা চালায়। মাঝে কয়েক দিন সংঘর্ষ থামলেও গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যটির পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয়পক্ষের মধ্যে ভারী গোলাবর্ষণ চলছে এবং জান্তা বাহিনী ওই অঞ্চলের প্রায় ১০টি গ্রামে বিমান হামলা চালিয়েছে। জান্তা বাহিনী যুদ্ধবিমান ও ওয়াই-১২ এয়ারক্রাফট ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রামে ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ফেলেছে বলে জানা গেছে। রাখাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় বহু বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কায়াকফিউ ও মানআংয়ে জান্তা বাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে এবং উপকূলে আরও নৌযান পাঠানো হয়েছে। কায়াকফিউ ছাড়াও রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতেও হামলা চালাচ্ছে আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মির গোলাবর্ষণের কারণে সব বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জান্তা বাহিনী শহর থেকে সড়ক ও জলপথে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং রাজধানীর আশপাশের ২০টিরও বেশি গ্রামে প্রতিরক্ষা বাঙ্কার নির্মাণ করছে।

এদিকে মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিদ্রোহীদের দমনে একটি নতুন আইন পাস করেছে। এ আইনের মাধ্যমে সশস্ত্র চীনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে মিয়ানমারে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, চীনের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন দেশটিতে অবস্থান করে বেইজিংয়ের স্বার্থরক্ষা করতে পারবে। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পগুলোর, যার মধ্যে অন্যতম কায়াকফিউ। এ অঞ্চলেই চীনা অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক বৃহৎ প্রকল্প আছে।