২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের রেকর্ডসংখ্যক আশ্রয় আবেদন পড়েছে। গতকাল সোমবার ইউরোপের আশ্রয় সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও বাংলাদেশিদের করা ৯৬ শতাংশেরও বেশি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন জমা দেয় ৪৩ হাজার ২৩৬ বাংলাদেশি, যা এ অঞ্চলের কোনো দেশ থেকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আশ্রয় চাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ষষ্ঠতম। ইইউএএ বলছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোতে ২৩ হাজার ৩ জন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। আর একই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ২০ হাজার ২৩৩ জন বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদন জমা দিয়েছেন। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের হার প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে ইতালিতে। ইইউ প্লাস অঞ্চলে করা বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৭৭ শতাংশই জমা পড়েছে ইতালিতে। ২০২৪ সালে ইতালিতে আশ্রয় আবেদন করেছেন ৩৩ হাজার ৪৫৫ বাংলাদেশি। যেখানে ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের এ সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৪৪৮। ইতালির পর বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে। গত বছর ইউ প্লাস দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট আবেদনের প্রায় ১৫ শতাংশই করা হয়েছে ফ্রান্সে। দেশটিতে মোট ৬ হাজার ৪২৯ জন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডে ১ হাজার ৬ জন বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদন করেছিলেন।
ইইউএএ’র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের করা আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৪৭ হাজার ৭৭৮টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ওই বছর প্রায় ১ হাজার ৯৮৯ জন বাংলাদেশি তাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। গত বছর বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন স্বীকৃতির হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
ইউরোপে আশ্রয় আবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির প্রায় ৮৭ হাজার ৩৮২ নাগরিক গত বছর ইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পর আশ্রয় আবেদনে তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তান। ২০২৪ সালে প্রায় ২৩ হাজার ২৪০ পাকিস্তানি নাগরিক ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করেন। ইইউএএ’র তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রাপ্ত সব আবেদনের ৪৮ শতাংশই নাগরিকত্বের জন্য করা হয়েছিল। তবে এসব আবেদনের স্বীকৃতির হার ছিল ২০ শতাংশেরও কম।