মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার অন্তর্র্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন। আবরার ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীদের হাতে পিটুনিতে নিহত হন।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা তার পোস্টে বলেছেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি-আবরার ফাহাদ। মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫-এ ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা  দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার!’

বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা এই স্বাধীনতা পুরস্কার। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

আবরার ফাহাদ ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে ‘ইসলামী ছাত্র শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ।

 ৩৭ দিন তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। দুই বছরের মাথায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ  দেন।

তবে অভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে যে আসামিরা পালিয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যে আবরার হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মুনতাসির আল জেমিরও থাকার খবর সম্প্রতি প্রকাশ পায়।