লেগ স্পিনের জাদুকরের তৃতীয় প্রয়াণ দিবস আজ

ক্রিকেটের ইতিহাসে ৪ মার্চ এক শোকাবহ দিন। ঠিক তিন বছর আগে ২০২২ সালের এই দিনে বিশ্ব হারিয়েছিল স্পিন জাদুকর শেন ওয়ার্নকে। থাইল্যান্ডের এক রিসোর্টে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি।

শেন ওয়ার্ন ছিলেন এমন এক স্পিনার, যিনি লেগ স্পিনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট অভিষেকটা খুব সুখকর ছিল না। তবে পরবর্তীতে তিনিই হয়ে যান ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা স্পিনার।

১৯৯৩ অ্যাশেজে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে ইংল্যান্ডের মাইক গ্যাটিংকে করা 'বল অব দ্য সেঞ্চুরি' দিয়ে বিশ্বকে জানান দেন ওয়ার্ন। অফস্টাম্পের অনেক বাইরে পড়ে নাটকীয়ভাবে ভেঙে দেয় গ্যাটিংয়ের স্টাম্প! ওই মুহূর্তেই বোঝা যায়, ক্রিকেট নতুন এক স্পিন জাদুকর পেয়েছে।

শুধু অ্যাশেজেই নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়ন করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শেন ওয়ার্ন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ৪ উইকেটসহ পুরো টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটেও নিজের নাম সোনার হরফে লিখিয়ে নেন ওয়ার্ন। ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে থামেন ৭০৮ উইকেট নিয়ে। ওয়ানডেতে তার উইকেট সংখ্যা ২৯৩।

অ্যাশেজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী (১৯৫ উইকেট, ৩৬ টেস্টে)। ১৯৯৩ সালে ৩৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজ জেতান, যা আজও স্মরণীয়।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ওয়ার্ন ছিলেন ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও যুক্ত ছিলেন। ২০২১-২২ অ্যাশেজেও তাকে শেষবারের মতো ধারাভাষ্যে দেখা যায়।

২০২২ সালের ৪ মার্চ, মৃত্যু থেকে কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রয়াত অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রড মার্শকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেছিলেন ওয়ার্ন। এরপর থাইল্যান্ডের এক ভিলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ময়নাতদন্তে প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যু বলে নিশ্চিত করা হয়। ছয় দিন পর তার মরদেহ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে। ২০ মার্চ, মুরাবিন ওভালে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় এই মহাতারকাকে।

ক্রিকেট দুনিয়ায় আজও আলোচনায় তার নাম, তার সেই জাদুকরী লেগ-ব্রেক, তার নেতৃত্ব, তার আক্রমণাত্মক মানসিকতা। শেন ওয়ার্ন শুধু একজন বোলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্রিকেটের এক অনন্য চরিত্র—যার অভাব পূরণ হওয়ার নয়।