চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলছে দুবাইয়ে। রোহিত শর্মার দল ফাইনালে ওঠায় দুবাইয়েই হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার ওপর ভারতের কারণে তাদেরকে বাড়তি ভ্রমণ করতে হয়েছে। ফাইনালে তাই নিউজিল্যান্ডকেই সমর্থন দেওয়া ঘোষণা দিলেন ডেভিড মিলার।
গ্রুপ পর্বে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে সেমিফাইনালে কার বিপক্ষে কোন দল খেলবে সেটা নির্ধারিত হয়নি। তাই গত ১ মার্চ দুবাইয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরদিন দক্ষিণ আফ্রিকা দলও দুবাইয়ে পাড়ি জমায়। কারণ, ভারতের প্রতিপক্ষ হলে তাদের দুবাইয়েই খেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রতিপক্ষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাই প্রোটিয়াদের আবারও দুবাই থেকে ফিরতে হয়েছে পাকিস্তানে।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত হয়েছেন প্রোটিয়ারা। গতকালের ম্যাচে ৬৭ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা ডেভিড ‘কিলার’ মিলার স্পষ্ট করেই বলেছেন, ফাইনালে তিনি কিউইদের সমর্থন দেবেন। মিলারের ভাষায়, ‘আমি সৎ উত্তরই দেব, (ফাইনালে) আমি নিউজিল্যান্ডকেই সমর্থন দেব। তবে দুটি দলই অবিশ্বাস্যরকমের ভালো। ভারত গোটা দুনিয়াকেই দেখিয়েছে, তারা কতটা ভালো। অনেক বছর ধরেই তারা ভালো ক্রিকেট খেলছে এবং দারুণ কিছু ক্রিকেটার তাদের আছে। দুর্দান্ত এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’
ভারতের কারণে বাড়তি ভ্রমণের বিরক্তিও গোপন করেননি মারকুটে এই ব্যাটসম্যান, ‘যদিও স্রেফ এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইট, তার পরও তো সেটা আমাদেরকে করতে হয়েছে। একটি ম্যাচ শেষে ভোরে আমাদেরকে রওনা দিতে হয়েছে। বিকেল ৪টায় আমরা দুবাইয়ে গিয়েছি। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটায় আবার ফিরে আসতে হয়েছে। এসব কখনোই ভালো লাগার মতো কিছু নয়। এমন নয় যে ৫ ঘণ্টার ফ্লাইট ছিল। রিকভারির যথেষ্ট সময় ছিল। তবে অবশ্যই পরিস্থিতি আদর্শ নয়।’
অবশ্য সেমিফাইনালে ৫০ রানে হারের পছনে এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না মিলার। পরাজয়ের জন্য নিজেদের ব্যাটিং এবং উইকেটের দায় দেখছেন তিনি, ‘(রান তাড়ায়) টপ অর্ডার থেকে ভালো কিছু অবদান ছিল। গোটা দুই ফিফটি ছিল টপ অর্ডারে। বেশ শক্ত ভিত পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাঝের ওভারগুলোয় আমরা দুটি উইকেট বেশি হারিয় ফেলি। দিনশেষে, এটা দলীয় প্রচেষ্টা। সবাই নিজের সেরাটাই চেষ্টা করে। উইকেট যতই ভালো হোক, ৩৬০ রান তাড়া করা সহজ নয় কখনোই। রাতে শিশিরও পড়েনি। খেলা যত গড়িয়েছে, উইকেটের অবস্থা বরং একটু খারাপই হয়েছে।’