বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে ডিসেম্বর নয়, জুন-জুলাইয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব। এটি নিয়ে গড়িমসি করলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা আসবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে রাজশাহীতে আহত ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ পরিবারদের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার সাক্ষাৎ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকালে রাজশাহীর ভূবন মোহন পার্কে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা কেন কঠিন, এ প্রশ্ন তুলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা মার্চ মাস। সরকারও একটি সময় বলেছে নির্বাচনের জন্য। আবার শুনি কেউ কেউ বলে এটা পিছিয়ে দিতে হবে। এই সময়ে নির্বাচন করা কঠিন। নির্বাচন তো করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার সহায়তা করবে।
আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের নেতৃত্বেই এই সরকার। আমরা মনে করি, তিনি ন্যায়সংগত আচরণ করবেন জনগনের সঙ্গে। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। কারণ ড. ইউনূস সাহেব দেশের একজন অন্যতম স্বনামধন্য সন্তান। তিনি নিজে আন্তর্জাতিক সম্মান নিয়ে এসেছেন। তো তার কাছ থেকে আমরা বেআইনি আচরণ পাব না। কিন্তু তারপরও দেখি সরকারের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলে যে, ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকশন করা কঠিন। কিন্তু কেন কঠিন হবে? এখনো তো ৯-১০ মাসের মতো বাকি আছে। নির্বাচন করতে এত সময় লাগবে কেন?
নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে ডিসেম্বর কেন, জুনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব। জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব। কারণ এ দেশের জনগণ আজকে দেড়যুগ ধরে ভোট দিতে পারে না। এটি নিয়ে গড়িমসি করা হলে জনগণের মধ্যে তো সন্দেহ জাগবেই। তিনি বলেন, আজকে কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আরেকটা হচ্ছে গণপরিষদ নির্বাচন এক সঙ্গে হতে হবে। গণপরিষদ হয় একটা দেশ যখন স্বাধীন হয়, যেখানে কোনো সংবিধান থাকে না। কোনো ধরনের আইন-কানুনের বিষয় থাকে না, তখন গণপরিষদ হয়।
সংস্কার করতে কতদিন সময় লাগে, সে প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, ‘আজকে সংস্কারের কথা যারা বলছেন, এই সংস্কার করতে কতদিন সময় লাগে? পুলিশ যাতে কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে সরকারের বাহিনী হয়ে জনগণের ওপর অত্যাচার না করতে পারে। সেই সংস্কারগুলো করতে কতক্ষণ সময় লাগে? সেই আইনগুলো করুন। আর এই আইনগুলো আইনিকরণ করতে হলে তো নির্বাচিত সরকার দরকার। নির্বাচিত সরকার না হলে কী করে এগুলো সম্ভব? এটা তো সম্ভব নয়। এজন্য আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরকার। তার পরে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কারণ, বাপেরই জন্ম হলো না, তো সন্তান জন্ম হবে কী করে? বাপই না সন্তান জন্ম দেবে। আগে জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হলে আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আমরা বারবার বলেছি একটা যৌক্তিক সময়, এটা যাতে প্রলম্বিত না হয়। আর সংস্কার তো চলমান ধারা।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের এত মাথাব্যথা কেন? ভারত এখন শেখ হাসিনার দোসরদের বাগানবাড়িতে পরিণত হয়েছে। ভারতের সব অপকর্ম শেখ হাসিনা মেনে নিতেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশিদের পাখির মতো গুলি করে মারলেও হাসিনা সরকার নীরব থাকত। ভারত মনে করত হাসিনা তাদের একজন বিশ্বস্ত, অনুগত। ছাত্র-ছাত্রীদের হত্যা করে রক্তাক্ত করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে, ভারত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমরা বিএনপি পরিবারের সভাপতি আতিকুর রহমান রুমন। স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা প্রমুখ।