মাগুরায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে আট বছরের এক শিশু। গত বুধবার রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সঙ্কাটাপন্ন অবস্থায় শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুজনকে। এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তারা অভিযোগটি পায়। গতকাল সকালে শিশুটির দুলাভাই সজীব শেখকে (১৯) আটক করা হয়। আর ঘটনার পরপরই আটক হন সজীব শেখের বাবা হিটু শেখ (৪৫)। মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শিশুটির স্বজনরা ঢাকায় থাকায় এখনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে গতকাল জুমার নামাজ শেষে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় জেলার বিভিন্ন জায়গায়। শহরের ভায়না মোড়, চৌরঙ্গী মোড় ও মহম্মদপুরে বিক্ষোভ হয়। ভায়না মোড়ে সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে একটি পুলিশের প্রিজন ভ্যান তল্লাশি করে আসামি খোঁজার চেষ্টা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে বিশৃঙ্খলা শুরু করে সদর থানার প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি দল গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মাহমুদা মিনা জানান, সকালের দিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়ালেও সে বেঁচে আছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির গলায় আঘাত রয়েছে, তার গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তাকে গতকাল রাতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
শিশুটির বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলের পেডিয়াট্রিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. ছামিদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার তার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’