রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে এ হত্যাকা-ের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। এতে তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিশন কার্যালয়ে হাজির হয়ে ফোন অথবা ই-মেইল বা চিঠির মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও আরও যাদের সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক, জামালপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আজম, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের তৎকালীন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ শামসুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি (মহাপরিচালক) লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহ্হার আকন্দ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা +৮৮০১৭১৪০২৬৮০৮ এই মোবাইল নম্বরে অথবা পড়সসরংংরড়হ@নফৎ-পড়সসরংংরড়হ.ড়ৎম ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ করে কমিশনের বিআরআইসিএম, ভবন সপ্তমতলা, (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) ড. কুদরত-ই-খুদা রোড, ধানম-ি, ঢাকা-১২০৫ এই ঠিকানায় হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। এ ছাড়া, উল্লিখিত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকান্ডের স্বরূপ উদঘাটন, ষড়যন্ত্রকারী, ইন্ধনদাতা, ঘটনাসংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি অপরাধী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সংস্থা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সাত সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সাবেক মহাপরিচালক আ ল ম ফজলুর রহমানকে। ইতিমধ্যে কমিশন ৩৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে বলে কয়েক দিন আগে জানানো হয়। কমিশন গঠনের তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।