দ্রুততম সময়ে শিশু ধর্ষণকারীদের শাস্তি দাবি রিজভীর

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমি সরকারের প্রতি বলতে চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির ওপর জুলুমকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। যে দৃষ্টান্তদেখে অন্যান্য অপরাধী, ধর্ষক, দস্যুদের হৃদয়ে হৃৎকম্পন তৈরি হয়। এটার জন্যই ১৫ বছর আমরা লড়াই করেছি। এর জন্য এত আত্মত্যাগ। এর জন্য শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আজকে ধর্ষণের পরিমাণ বেড়ে গেছে, নারীরা নিরাপদ নয়। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে তার প্রত্যাবর্তন কীভাবে হবে, ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বাসায় ফিরবে না স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরবে তার কোনো নিরাপত্তা নেই। সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করতে হবে। সেখানে গণতন্ত্রমনা মানুষ, রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা, ছাত্র সংগঠনসহ সবাইকে একত্রিত হয়ে এই কাজটি করতে হবে।’

গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের উদ্যোগে মাগুরায় এক শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে র‌্যালিপূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে রিজভী এ কথা বলেন। র‌্যালিটি কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর মোড় হয়ে নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, ‘শিশুটির জন্য সব আইনি দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঘটনার পর দ্রুতগতিতে নারী নেত্রীদের হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন অন্তর্বর্তী সরকার, স্বৈরাচার নেই। তাহলে কেন এসব ঘটনা ঘটছে? প্রশাসনে কারা? আমরা অনেকবারই বলেছি, কোনোদিনই সমাজে ধর্ষণ, খুন, জখম, দুর্নীতির প্রসার ঘটবে না যদি আপনার প্রশাসন ঠিক হয়। অনেকে বঞ্চিত ছিলেন শেখ হাসিনার আমলে। অনেক প্রমোশন পেয়েছেন, ডাবল প্রমোশন পেয়েছেন। তাহলে আপনাদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল সেই ক্ষোভ থাকার কথা নয়। তাহলে তৃণমূলে প্রশাসনের কর্তৃত্ব প্রয়োগ হচ্ছে না কেন? এটা একটা বড় প্রশ্ন। এর দায় তো যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরে।’

রিজভী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তাদের অবদান আমরা ভুলি না। কিন্তু তারা যদি ডিসিকে নির্দেশ দেয়, এসপিকে নির্দেশ দেয়, ডিসি-এসপির ঘরে বসে থাকে তাহলে আইন প্রয়োগ হবে কি করে? ডিসি-এসপি অন্যায় করলে আপনি ক্যাম্পাসে তার প্রতিবাদ করুন। আপনার জায়গায় ক্যাম্পাস। আপনার হাতে বই থাকবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কীভাবে মজবুত করা যায়। আরও কীভাবে শিক্ষার মেরুদ-কে মজবুত করা যায় সেটা করুন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অনুরোধ করব আপনারা ক্যাম্পাসে অন্যায়ের প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। আপনাদের কাজ না এসপির রুমে, ডিসির রুমে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদারকি করা। একটা কথা আছে, বন্যরা বনে, সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ছাত্রদের কাজ ক্যাম্পাস, ছাত্রদের কাজ ক্লাসরুমে, ছাত্রদের কাজ লাইব্রেরিতে।’

সভাপতির বক্তব্যে মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারকে বলব, আপনারা এর বিচার করুন, আমরা এর বিচার চাই। শিশুটির যে বোনের শাশুড়ি, তারও বিচার চাই। এই নারীকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো দরকার। শিশুটির বোনের শ^শুর, শিশুটির বোনের স্বামীর ফাঁসি চাই। সরকার বলছে, ১৮০ দিন বা তিন মাস বা ছয় মাস লাগবে তদন্ত শেষ করতে। এত দিন লাগবে কেন? এদের শাস্তি যদি দ্রুত না দেন তাহলে আরও ধর্ষণ মামলাটি ঝুলে যাবে, আরও ঘটনা ঘটবে। গতকাল ইয়েমেনে শিশু বাচ্চাকে ধর্ষণ করার জন্য দুজনকে একদম জনসমক্ষে মৃত্যুদ- কার্যকর করল। যেখানে লাখ লাখ মানুষ তাকিয়ে দেখল মৃত্যুদ-ের দৃশ্য। আমরা জেলখানায় এর বিচার চাই না, আমরা জনসমক্ষে এর বিচার চাই।’

মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর নার্গিসের সঞ্চালনায় সমাবেশে মহিলা দলের সহসভাপতি নেওয়াজ হালিমা আরলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহানা আখতার শানু, মহানগর উত্তরের সভানেত্রী রুমা আখতার, দক্ষিণের সদস্য সচিব লুনা লায়লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।