কাজ করতে দেন আক্রমণ করবেন না : আইজিপি

পুলিশের ওপর আক্রমণ না করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ করতে দেন, অনুগ্রহ করে আমাদের ওপর আক্রমণ করবেন না। আমরা তো এই সমাজ এবং দেশেরই লোক। কীভাবে সমাজে স্থিরতা আসবে, কীভাবে নিরপেক্ষ-অবাধ নির্বাচনের দিকে আগাব, আমরা যদি আস্থা না আনতে পারি। আমাকে কেন কাজ করতে দিচ্ছেন না। এটা তো টোটালি যুক্তিহীন একটা কাজ।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় শিল্প পুলিশ ২- এর ইউনিটের বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা দাবি আদায়ের জন্য রাস্তা আটকাবেন না। এতে লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়। আপনারা তাদের বছরের এ একটা উৎসব আয়োজনের আনন্দযাত্রায় বিঘœ হয়ে দাঁড়াবেন না। এ ধরনের কার্যকলাপ যেই করবেন আমি দৃঢ়কণ্ঠে বলছি, আমরা এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ নেব। আপনারা নিজ কর্মস্থলের ক্ষতি করবেন না। ভাঙচুর করে নিজেদের প্রিয় কর্মস্থলের কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেবেন না। গুজব ছড়ানোর কারণে অনিয়মতান্ত্রিক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানো হয়। যদি এ রকম গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের পিসিসি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, শ্রমিকদের ঈদের বোনাস ও মার্চ মাসের আংশিক বেতন ২০ রমজানের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই তাদের এই ন্যায়সঙ্গত ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় আছি এবং আপনাদের পাশে আমরা সব সময় থাকব। শিল্প খাতের সকল স্টেকহোল্ডার, শ্রমিক নেতাসহ সবার প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান আপনারা কোনো গুজবে কান দেবেন না।’

জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আইজিপি বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে আমাদের কিছু কিছু সদস্য, মোস্টলি সিনিয়র অফিসার অতি উৎসাহ দেখিয়েছেন। আমি কোনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি কিছুই বুঝি না। কিন্তু ওনাদের রাজনৈতিক আনুগত্যের জন্য পুরো পুলিশ কলঙ্কিত হয়েছে। সারা বিশ্বে এখন বলে যে বাংলাদেশ পুলিশ এত নির্মম কীভাবে হলো?’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, ‘এ সমাজটাকে স্থিতিশীল করার জন্য, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখানে যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে, নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে অনেকে সংক্ষুব্ধ। বর্তমানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা মানুষের জনজীবন যেন সুন্দরভাবে না চলে এসব জায়গায় অনেকে চেষ্টা করবেন যেন অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে। এটা খুব স্বাভাবিক। এরা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক। তাদেরকে প্রতিহত করাই আমাদের কাজ।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সিবগাতুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম আওলাদ হোসেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল করিম খান, শিল্প পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদার, ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক, গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, বিজিএমইএর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিল্প পুলিশের জন্য বিজিএমইর পক্ষ থেকে দুটি পুলিশ ভ্যান এবং ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলের পক্ষ থেকে একটি পিকআপ ভ্যান দেওয়া হয়।