কিউবায় ফের গ্রিড বিপর্যয় বিদ্যুৎহীন কোটি মানুষ

জাতীয় গ্রিডে গোলযোগের কারণে কিউবা জুড়ে মারাত্মক বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে কিউবার বিদ্যুতের মূল সরবরাহ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। বড় ধরনের এই বিদ্যুৎবিভ্রাটের সত্যতা এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, গত অক্টোবর মাসেও একই ধরনে গোলযোগের কারণে দেশটির এক কোটির বেশি মানুষ এক সপ্তাহের বেশি বিদ্যুৎহীন ছিলেন।

দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনার পরপরই এক বার্তায় জানায়, দিজমেরো সাবস্টেশনে একটি সমস্যার কারণে কিউবার পশ্চিমে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অবশ্য গ্রিড মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় আনার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ভঙ্গুর অবকাঠামো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে লম্বা সময় ধরেই হিমশিম অবস্থা ক্যারিবীয় দেশটির। এর মধ্যে বড় ধরনের এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার আরেকটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিউবার দুর্বল জ্বালানি খাতকে আরও ধসিয়ে দেওয়ার জন্য দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো দায়ী করে আসছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বেড়েছিল। তবে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের অবকাঠামোতে বিনিয়োগের অভাবকেও দায়ী করেছেন সমালোচকরা। এদিকে বিবিসি লিখেছে, দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট কিউবার জন্য সর্বদাই অস্থির সময় ধরা হয়। কারণ আলো জ্বালিয়ে রাখার ক্ষমতাকে কিউবান সরকারের জনশৃঙ্খলা ধরে রাখার সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত। ২০২১ সালের জুলাই মাসে কয়েক দিনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিলে দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। রোজকার নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলার প্রশ্নে নাগরিকদের যে ভয় কেটে যাচ্ছে, তা কিউবা সরকার ক্রমেই বুঝতে পারছে।