প্রবাসী লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্ট কেন্দ্র করে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয় ঘিরে দিনভর ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল টিমকেও দেখা গেছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে সিপিবি কার্যালয়ের সামনে।
এর আগে শুক্রবার হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নের বিচার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণের দাবিতে গণমিছিলের কর্মসূচি দেয় আটটি সংগঠন। এর পাল্টা কর্মসূচিতে পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়কে ‘ছাত্র-জনতার কার্যালয়’ বানানোর ডাক দেন লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। শুক্রবার মধ্যরাতেই নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ আহ্বান জানান পিনাকী।
সিপিবির কার্যালয়ে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফলে শনিবার সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ সময় তারা নানা সেøাগান দিতে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মাগুরার ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত অছিয়ার স্মরণে, সিপিবির কার্যালয়ের সামনে বেলা ১১টায় কালো পতাকা উত্তোলন করেন দলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। এ সময় তিনি বলেন, দেশে একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই লজ্জা আমরা ধারণ করতে পারছি না। নারীবিদ্বেষী বক্তব্য আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘মুক্তি ভবন’ এর আগেও উগ্রপন্থিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায় না, যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি, এমনকি যারা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা যেকোনো ধরনের বিরুদ্ধাচরণের প্রচেষ্টা নিতে পারে। কিন্তু এটাকে আমরা মোটেই আমলে নিতে চাই না। এই ‘মুক্তি ভবন’ বাংলাদেশের গরিব মেহনতি মানুষের ঠিকানা। এটা গরিব মেহনতি মানুষের সম্পদ, তারাই এই ভবন রক্ষা করবে।
প্রিন্স আরও বলেন, এই সমাজে পুরুষতান্ত্রিক লালসার শিকার মাগুরার শিশুটির যে মর্মান্তিক মৃত্যু, সেজন্য আমরা দেশব্যাপী শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। কর্মসূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি হবে। এরপর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শোক মিছিল বের করব।
অন্যদিকে হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নের বিচার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণের দাবিতে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করেছে বামপন্থি আটটি সংগঠন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, গত ১১ তারিখ মশাল মিছিল থেকে আজকের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম কর্মসূচি ঘোষণা করার পর থেকে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচি নসাৎ করার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত করে আসছে। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বলা হয়েছে, আমরা যেন এই কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করি, পালন না করি। হামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের যে গণমিছিল হওয়ার কথা ছিল শহীদ মিনার থেকে টিএসসি পর্যন্ত, সেই গণমিছিল স্থগিত করে আমাদের আজকের কর্মসূচি এখানেই সমাপ্ত করছি।
গণমিছিলের উদ্যোগ নেওয়া দলগুলো ছিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)।