রোজা না রাখার শাস্তি

ইসলামে অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। কেননা পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস হলো সেই মাস, যে মাসে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের পথপ্রদর্শক, সত্য পথের উজ্জ্বল নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে, তারা যেন রোজা রাখে। কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে সে যেন অন্য সময়ে সেই (রোজার) সংখ্যাগুলো পূরণ করে।’ (সুরা বাকারা ১৮৫) সুতরাং যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা ত্যাগ করল সে ইসলামের রোকন ও ফরজ বিধান ত্যাগ করল, সে কবিরা গুনাহ করল। একটি কবিরা গুনাহই মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। রমজানের রোজা না রাখার বিষয়ে যেসব শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে তিনটি ভয়াবহ দিক উল্লেখ করা হলো।

কুফরিসদৃশ কাজ : ইসলামে অনুমোদিত কারণ ছাড়াই যারা রমজানের রোজা ত্যাগ করে তারা কুফরিসদৃশ কাজ করে। কেননা এমতাবস্থায় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামের ফরজ বিধান ছেড়ে দেয়, যা ওই বিধানটি অস্বীকার করার সমতুল্য।

মুসলিম হওয়ার ব্যাপারে সংশয় : ইমাম জাহাবি (রহ.) বলেছেন, মুমিনদের কাছে এ কথা প্রমাণিত, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থতা ও ইসলামে অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়াই রমজানের রোজা ছেড়ে দেয়, সে একজন নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে সাব্যস্ত হয়। তার ইমান আছে কি না, সেই ব্যাপারেও সন্দেহ হয়। (আল-কাবায়ির ৬৪)

জাহান্নামে ভয়াবহ শাস্তি : যারা ইসলামে অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা রাখবে না বা রোজা রেখে ভেঙে ফেলবে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাদের স্থান হবে জাহান্নাম। আবু উমামা বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, এ সময় স্বপ্নে দুজন মানুষ এসে আমার দুবাহু ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে বলল, আপনি এই পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলল, আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি। তাদের আশ্বাস পেয়ে আমি উঠতে লাগলাম এবং পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কীসের শব্দ? তারা বলল, এটা জাহান্নামিদের চিৎকার। এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে গেল যাদের পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন এবং তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা হলো এমন রোজাদার, যারা রোজা পূর্ণ না করে ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)

রোজা ভাঙার প্রতিবিধান : প্রকৃতপক্ষে ফরজ আমল সময়মতো পালন না করার কোনো পরিপূর্ণ প্রতিবিধান নেই। কেননা ব্যক্তি সময়মতো ইবাদত না করলে যে ফজিলত ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে হয় তা কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে আলেমরা বলেন, ব্যক্তি যদি রোজা ত্যাগ করে তবু তার প্রতিবিধান আছে। এই প্রতিবিধান তার পাপমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তারা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি রমজানের যত রোজা ছুটে গেছে সেটার জন্য তওবা করবে এবং হিসাব করে সেগুলোর কাজা আদায় করতে হবে। বার্ধক্য বা কোনো কারণে কাজা না করতে পারলে ফিদিয়া দেবে। একটি রোজার পরিবর্তে একটি ফিদিয়া ফরজ হয়। এক ফিদিয়ার পরিমাণ হলো, একজন মিসকিনকে পেট ভরে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা।

স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃত যত রোজা রেখে নষ্ট করা হয়েছে প্রত্যেক রোজার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ৬০টি করে রোজা কাফফারা হিসেবে রাখতে হবে। রোজা রাখার সামর্থ্য না থাকলে, যেমন বৃদ্ধ হয়ে গেলে প্রত্যেক রোজার জন্য এক ফিতরা পরিমাণ কাফফারা দেবে। (হিন্দিয়া ১/২০৫)