যশোর শহরে বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার পর এক ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত পোনে ১২টার দিকে শহরের রেলগেট এলাকার মসজিদ মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মীর সাদি ওই এলাকার মীর শওকতের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ ও সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র দেখে পুলিশ এই হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করেছে।
নিহত সাদি শহরের রেলবাজারের ইজারাদার ছিলেন। এই বাজারের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে সাদি খুন হয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কাজী বাবুল হাসান জানান, চাচাতো ভাই রাকিবের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দুই যুবক সাদির ওপর হামলা চালায়। তাদের মধ্যে একজন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে, অন্যজন সাদিকে ছুরিকাঘাত করে চলে যায়। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। অ্যাম্বুলেন্সে খুলনায় নেওয়ার পথে প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর যশোর শহরের বকচর এলাকায় মৃত্যু হয় সাদির। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সটি আবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের পর যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবলু কিশোর জানান, ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে সাদির। এর মধ্যে বুকের আঘাত ছিল গুরুতর।
ওসি কাজী বাবুল হাসান আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র থেকে সাদি হত্যায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলো যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার শহিদুল ইসলাম বাবুর ছেলে সুমন ওরফে ট্যাটু সমুন এবং শংকরপুর মহিলা মাদ্রাসার পেছনের বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান অনিক। তাদের মধ্যে সুমনের বিরুদ্ধে ১৪ ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে যশোর কোতোয়ালি থানায়।