ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাদের নতুন নিয়মে অটল। দলের স্বার্থে প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়েছে বোর্ড। অথচ, কিছুদিন আগেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) এক ইভেন্টে বিসিসিআইয়ের এই নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছিলেন বিরাট কোহলি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হারার পর ভারতীয় ক্রিকেটারদের আরও নিয়মানুবর্তী করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করেছে বিসিসিআই। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, বিদেশ সফরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিবারের থাকার সীমাবদ্ধতা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৪৫ দিনের ট্যুর হলে ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। অর্থাৎ, আগের মতো স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘসময় বিদেশ সফরের সুযোগ আর থাকছে না।
বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া জানিয়েছেন, ‘সবাই মতামত প্রকাশ করতে পারে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটা স্বাভাবিক। তবে এখনই এই নিয়ম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজারদের জন্যও প্রযোজ্য। দলের স্বার্থেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।’
এসওপি মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা নির্দেশিকা, যা কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রণীত হয়। বিসিসিআইয়ের ক্ষেত্রে এটি দলের শৃঙ্খলা ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের নতুন নিয়ম নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরাট কোহলি। আরসিবির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ক্রিকেটারের কাছে জানতে চান, তারা পরিবার নিয়ে থাকতে চায় কি না, তাহলে সবাই বলবে চায়। কেউই একা থাকতে চায় না। খেলার পর বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে বোর্ড সচিব ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ম নতুন কিছু নয়, আগে থেকেই ছিল। বিসিসিআই সভাপতি রজার বিনি যখন খেলতেন, তখনও এমন নিয়ম কার্যকর ছিল। শুধু কিছু সংশোধন আনা হয়েছে দলের স্বার্থে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে।’
প্রসঙ্গত, বিরাট কোহলি অধিনায়ক এবং রবি শাস্ত্রী কোচ থাকার সময় ক্রিকেটারদের পরিবারকে বিদেশ সফরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেই নিয়ম চালু থাকলেও, হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে, বর্তমানে দলে অনেকেরই ছোট সন্তান থাকায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।