অবশেষে চলেই যেতে হলো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে। নানা মহলে দেনদরবার করেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যেতে পারেননি তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। এই জন্য অফিস থেকে নিজস্ব মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। সবার কাছ থেকে বিদায়ও নিয়েছেন। তবে কর্মকর্তাদের শঙ্কা অবসরে গেলেও তিনি আগের তারিখে ফাইলে স্বাক্ষর করবেন। বেবিচকের কিছু কর্মকর্তা তাকে সেই আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে কঠোর হার্ডলাইনে গিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পরিবহন মন্ত্রণালয়। বেবিচকের প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আমলে নিয়ে কাজ করছে। হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় গোপনে তদন্ত করে এর সত্যতাও পেয়েছে। তবে বেবিচকের কয়েক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে নানা উপায় বের করার চেষ্টা চালায়। এমন কি দুদক থেকে অনাপত্তি নিতে চিঠি পাঠিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। দুদক চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে বেবিচক। দুর্নীতির মামলা থাকার পরও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে তোড়জোড় করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ মহলেও তদবির করা হয়েছে। তারপরও কাজ হয়নি। ২২ মার্চ তার চাকরির মেয়াদ শেষ। ২৩ মার্চ থেকে প্রধান প্রকৌশলীর পদটি খালি হয়ে যাবে। তবে কিছুদিন পর বেবিচকের বোর্ড সভায় নতুন করে প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে পারবে।
এ বিষয়ে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৯ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে তাদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চলতি মাসের ২৩ তারিখে প্রধান প্রকৌশলীর পদটি খালি হবে। ২২ মার্চ বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান অবসরে যাবেন। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে নানা মহলে তদবির করেছেন। আজ তিনি শেষ অফিস করছেন। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। এমনকি গত দুদিন দুদকের চার মামলার আসামি প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বিভিন্ন ডকুমেন্ট দুদকের আলামত তার নিজস্ব কর্মচারী দিয়ে গায়েব করছেন বলেও আমরা তথ্য পেয়েছি। তিনি আরও বলেন. মন্ত্রণালয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর। আমরা যতটুকু জানি হাবিবুর রহমানের পুনরায় নিয়োগের বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও হাবিবুর রহমানকে দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্রিফ করার চেষ্টা হয়েছে। নানা সমালোচনার পর বাধ্য হয়ে হাবিবুর রহমানের নামে কাটা বিমানের টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হয়। তার পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্রিফ করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মন্জুর কবীর ভুঁইয়া।
জানা গেছে. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চারটি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এসব মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক, এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক লুৎফুল্লাহ মাজেদ।