রাশিয়ার সঙ্গে তিন বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করছে ইউক্রেন। যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের নেতৃত্ব দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।
কয়েক বছর ধরে ক্রেমলিন ইউক্রেনকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে জেলেনস্কিকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা করছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে তার বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও বলেছিলেন, জেলেনস্কি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নন এবং সে কারণে তিনি কোনো ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না। সাক্ষাৎকারে নির্বাচন প্রসঙ্গে উইটকফ বলেন, ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা এতে সম্মত হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই নির্বাচন হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন কোনো নির্বাচন আয়োজন করেনি। কারণ দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সামরিক আইন জারির পর নির্বাচন নিষিদ্ধ। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন এই সামরিক আইন ঘোষণা করে। দেশটির আইন অনুযায়ী নির্বাচন হতে হলে তা নিরাপদ, অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব। উইটকফ আরও বলেন, তিনি নিশ্চিত যে, রাশিয়া ইউরোপে হামলা চালাবে না। তিনি পুরো মহাদেশ জুড়ে রাশিয়ার আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ইঙ্গিত করে উইটকফ বললেন, তিনি ক্রমশ পিষ্ট হচ্ছেন। এখন তার জন্য চুক্তি করার সেরা সময়। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে সেরা সম্ভাব্য চুক্তিটি করে দিতে পারেন। তিনি বলেন, সংঘাত সমাধানের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে কোনো সাহায্য টেকসই হবে না।