বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এক দিন বন্ধ থাকার পর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার বিমানবন্দরটির সম্পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে হিথ্রো বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় অসুবিধায় পড়েছিল দুই লাখ যাত্রী। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের পাঠানো হয় অন্যান্য বিমানবন্দরে। এ কারণে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশের কথা জানিয়েছেন হিথ্রো বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী থমাস ওল্ডবাই। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটির পাশের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন ধরে যায়। তাই যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ ছিল বিমানবন্দর। এতে বাতিল হয়েছে ১৩ শতাধিক ফ্লাইট।
ইউরোপের ব্যস্ততম ও বিশ্বের পঞ্চম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিথ্রো। সেখানকার মেট্রোপলিটন পুলিশ এই আগুনকে নাশকতা হিসেবে দেখছে না। তদন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের আটটি দূরপাল্লার ফ্লাইটকে হিথ্রো ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তারা জরুরি ভিত্তিতে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। যুক্তরাজ্যের পরিবহন দপ্তর জানায়, জট কমাতে রাত্রিকালীন ফ্লাইট ওড়ানোর ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে তা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। বিমানবন্দরটির সিইও ওল্ডবাই জানান, ব্যাকআপ ট্রান্সফরমারও কাজ না করায় সুরক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী বিদ্যমান ব্যবস্থা বন্ধ করতে হয়েছিল। যাতে বাকি দুই সাবস্টেশন থেকে বিমানবন্দরের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এয়ার কানাডা এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ঘোষণা করেছে, তারা হিথ্রো থেকে নির্ধারিত ফ্লাইট ফের চালু করবে। বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র বলেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর প্রথম ফ্লাইটগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল যেসব যাত্রীকে ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ফেরানো এবং উড়োজাহাজ স্থানান্তর করা। তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যাকআপ সিস্টেম যেভাবে কাজ করা উচিত, সেভাবে কাজ করেছে; তবে তা পুরো বিমানবন্দর চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিমানবন্দরটির টার্মিনাল দিয়ে রেকর্ড ৮ কোটি ৩৯ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি দ্রুত সামলেছেন। আলেকজান্ডার বলেন, তিনি জ¦ালানিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হিথ্রোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও দ্রুত সমাধান করা যায়।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ২৩টা ২০ মিনিটে জরুরি পরিষেবাগুলোকে প্রথমে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছিল। সে সময় বিমানবন্দরগামী প্রায় ১২০টি উড়োজাহাজকে অন্যখানে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা তাদের উড্ডয়নস্থলে পাঠানো হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইঞ্জিন এবং প্রায় ৭০ জন দমকলকর্মীকে পাঠানো হয় জানিয়ে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড (এলএফবি) বলছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এলএফবি জানিয়েছে, ২৫ হাজার লিটার কুলিং ফ্লুইড ভর্তি একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লেগেছিল। ঘটনার সময় সতর্কতা হিসেবে একটি বড় কর্ডন স্থাপন করা হয় এবং প্রায় ১৫০ জনকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।