সাবেক ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নিখোঁজ সভাপতি সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয়, সংগঠনও স্থবির। এই অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা একযোগে কমিটির পদত্যাগ দাবি করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিলুপ্ত করা হয়েছে কোয়াবের সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন নাঈমুর, সাধারণ সম্পাদক সেলিম শাহেদকে সভাপতি করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা দুই মাসের ভেতরে নির্বাচন দেবেন।
২০১৪ সালে কোয়াবের নেতৃত্বে আসেন নাঈমুর ও দেবব্রত। তবে তাদের মেয়াদে সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় সমালোচনা হয়েছে বারবার। ২০১৯ সালে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কোয়াব পুনর্গঠন।
সংগঠনের কাঠামো ঠিক করতে প্রথমে গঠনতন্ত্র আপডেটের কাজ করবে আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক সেলিম শাহেদ বলেন, ‘গঠনতন্ত্রকে সঠিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। ভোটার তালিকারও কোনো গাইডলাইন নেই, সেটাও ঠিক করতে হবে। এ কাজে ৩-৬ মাস লাগতে পারে, তবে যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে চাই।’
কোয়াবের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘নান্নু ভাই (মিনহাজুল আবেদীন) এর ডাকে মিরপুরে গিয়েছিলাম। বলেছিলেন ৮-১০ জন মিলে বৈঠক করবেন, গিয়ে দেখি সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ৬০-৬৫ জন হাজির। তামিম (ইকবাল) ছিল, সোহান (নুরুল হাসান) ছিল, শান্ত (নাজমুল হোসেন) ছিল, জিয়া (জিয়াউর রহমান) ছিল। সেখানেই তারা জানায় যে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। এরপর সর্বসম্মতি ক্রমে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এখন একটা অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে, যেখানে আমার নামও প্রস্তাব করা হয়েছে তবে আমি থাকব না। এই কমিটি ২ মাসের ভেতর নির্বাচন দেবে। বিসিবির নিবন্ধিত ক্রিকেটারদের নামের তালিকা অনুযায়ী ভোটার লিস্ট হবে।’
সাবেক ক্রিকেটারদের সংগঠন হিসেবে বিসিবির সঙ্গে দরকষাকষির বদলে বিসিবির পকেট সংগঠন হয়েই থেকেছে কোয়াব। এবারে তাই খেলোয়াড়দের দাবি বিসিবি পরিচালক বা বিসিবিতে কর্মরত কেউ কোয়াবের নির্বাহী পদে থাকতে পারবেন না।
সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকা সেলিম শাহেদের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এতে আরও আছেন মিনহাজুল আবেদীন, হাবিবুল বাশার, নিয়ামুর রশিদ ও সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত। এছাড়া আছেন আটটি বিভাগীয় দলের অধিনায়করাও।
ডহক কমিটির সদস্য নিয়ামুর রশিদ রাহুল জানান, ‘আগের কমিটি যে গঠনতন্ত্র বানিয়েছিল সেটা খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না, যেটা সমাকজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত ছিল। গঠনতন্ত্রে সংস্কার করার জন্য আমরা কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করব ভোটার তালিকায় কারা থাকবেন, কারা নির্বাচন করতে পারবেন এসব বিষয়। আমরা আগের কমিটির অনেক কিছুর হদিস পাইনি, কে ট্রেজারার ছিলেন, টাকা-পয়সা কোথায় গেল এসব কিছুই জানি না। আমরা বিভাগীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসব। সর্বসম্মতিক্রমে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করব যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন। আমাদের অন্তর্বর্তী কমিটির মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হবে না।’