আবারও বিতর্কে ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং। আইপিএলের ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় রাজস্থান রয়্যালসের ইংলিশ পেসার জফ্রা আর্চারকে নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এর ফলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনকি ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকেও বাদ পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
রবিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে ঘটে এই বিতর্কিত ঘটনা। হায়দরাবাদ প্রথমে ব্যাট করে আইপিএলের ইতিহাসে রেকর্ড ২৮৬ রান তোলে। রাজস্থানের প্রায় সব বোলারই মার খান, তবে সবচেয়ে বেশি রান দেন জফ্রা আর্চার—চার ওভারে ৭৬ রান! যা আইপিএলের এক ইনিংসে কোনো বোলারের সর্বোচ্চ রান দেওয়ার রেকর্ড।
ঠিক তখনই ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে হরভজন বলেন, "লন্ডনে কালো ট্যাক্সির মিটার যেমন চড়চড় করে বাড়ে, তেমনই আর্চারের মিটার চড়চড় করে বাড়ছে।" কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার আর্চারকে ব্যঙ্গ করে এই মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্রিকেটে বর্ণবিদ্বেষ এখন বড় অপরাধ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজকরা শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনোভাবেই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। ফলে হরভজনের এই মন্তব্যকে বেশ গুরুতরভাবেই দেখছে ক্রিকেট মহল।
বিসিসিআই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে যদি রাজস্থান রয়্যালস আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে বা বিতর্ক আরও বাড়ে, তাহলে হরভজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ইরফান পাঠান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত রাগ থেকে ক্রিকেটারদের আক্রমণ করেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে পারেন হরভজনও।
হরভজনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০০৮ সালে সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে ‘মাঙ্কি’ বলে অপমান করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যা পরবর্তীতে ‘মাঙ্কিগেট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত হয়। সেই ঘটনায় তাঁকে নির্বাসিতও করা হয়েছিল। এছাড়াও, ২০০৮ আইপিএলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় এস শ্রীসন্থকে চড় মারার ঘটনায়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।
এবারের এই নতুন বিতর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।