সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওটিবয়ের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেবিকা সরকার নামে এক নার্সকে আটক করেছে। তবে এর আগেই পুলিশ আসার খবর পেয়ে হাসপাতালটিতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় মালিক মফিজুর রহমান, ওটিবয় রিপন, নার্স ও স্টাফরা। গতকাল শনিবার সকালে সাভারের তালবাগ এলাকায় অবস্থিত সিটিল্যাব হাসপাতালে এ রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. হাফিজুর রহমান (৩৬)। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায় এবং তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশুলিয়ার বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় শারমিন গ্রুপে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
আটক নার্স সেবিকা সরকার বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে রোগী আসে কিন্তু তখন জরুরি বিভাগে মেডিকেল অফিসার ছিলেন না। ওটিবয় রিপন ওই রোগীকে ভর্তি দিয়ে তাকে চিকিৎসা দেন। আমরা তার অর্ডার অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। বিষয়টি রিপনকে জানালে তার আসতে দেরি হওয়ায় রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক, ওটিবয় রিপনসহ অন্য নার্সরা পালিয়ে যান। আমি আর খালা হাসপাতালে ছিলাম, পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।’
নিহতের স্ত্রী মালা বেগম অভিযোগ করেন, গতকাল রাতে তার স্বামী মানিকগঞ্জ থেকে আশুলিয়া আসার পথে বাইশমাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। এ সময় তার হাত ভেঙে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের তালবাগ এলাকার সিটিল্যাব হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে থাকায় অবস্থায় তার পেটব্যথা উঠলে সেখানকার নার্সরা তাকে পেটব্যথার জন্য বেশ কয়েকটি ইনজেকশন পুশ করলে রাতেই সে মারা যায়। এদিকে এ ঘটনায় পরপর হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্তৃপক্ষরা নিহতের স্বজনদের বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যান।’
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাসিম বিল্লাহ ঘটনাস্থল থেকে সেবিকা সরকার নামের একজন নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ ছাড়া নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাভার প্রাইভেট হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘সিটি ল্যাব হাসপাতাল আমাদের সদস্য নয়। আমার জানা মতে তাদের বৈধ অনুমোদন নেই। মেডিকেল অফিসার ছাড়াই তারা নার্স এবং ওয়ার্ডবয় দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কারণেই রোগী মারা যায়। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে ব্যঙ্গের ছাতার মতো অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা অনুমোদনহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়, আমরা প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করব।’
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আল-হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ছাড়া হাসপাতালটির মালিক মফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির বলেন, নিহতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।