ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

সংস্কার-নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সংস্কারের প্রবক্তা। অথচ জনগণের কাছে আমাদের নিয়ে মিথ্যে প্রচারণা করা হচ্ছে যে, আমরা সংস্কারের বিরোধী। আগে নির্বাচন পরে সংস্কার, এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমাদের সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সংস্কার-নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িস্থ নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন তিনি ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচনের কথা বলে আসছি আমরা। নির্বাচন ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা সংস্কার করেই আমরা নির্বাচনের কথা বলে আসছি। বিএনপির ২০১৩ সাল থেকে যে ৩১ দফা দিয়েছিল তার একটিও বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে অমিল নেই। আমরা কখনো বলিনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করার জন্য ন্যূনতম যে সংস্কারটুকু প্রয়োজন তা করতে হবে। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আর গণতন্ত্রই হলো শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা সুশাসনের জন্য, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য।

রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমতের কারণে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্যই হচ্ছে ভিন্ন মত, বিভিন্ন দলের ভিন্ন মত নিয়ে জনগণের কাছে যাবে নির্বাচনের  মাধ্যমে জনগণ তাদের সঠিকটা বেছে নেবে তারাই সরকার গঠন করবে।

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে স্বৈরাচার হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন বিএনপির আমলে কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়নি, রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে অনেক অপ্রীতিকর কাজ করতে হয়। তাই বলে স্বৈরাচার হয়ে ওঠার  কোনো সুযোগ নেই। স্বৈরাচার হয়ে উঠলে তাদেরও আওয়ামী লীগের মতো অবস্থা হবে।

পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ প্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না, কারণ তাদের কনফিডেন্স অনেক নেমে গেছে। তবে আমাদের দলীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি কিছু কাজ করেছিল যা আমরা প্রশ্রয় দেইনি। কোনো কোনো সংগঠন ভেঙে দিয়েছি,  কোনো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

আমরা মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ সরকারের শাসনামলের থেকে এবার ঈদ আনন্দময় পরিবেশে হচ্ছে। আমরা মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি।’ গত সোমবার ঈদের দিন সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ বছরের ঈদের সঙ্গে এবারের ঈদের পার্থক্যটা কি জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক পার্থক্য, এবার আমরা মুক্ত পরিবেশে একটা আনন্দময় পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। আজকের এই দিনে আমরা আশা করব, যেই দায়িত্ব নিয়েছেন সেই দায়িত্বে সবাই সফল হবেন এবং বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের কাছে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবেন। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহায়তা করব।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে প্রত্যেকটি বাংলাদেশি মানুষ যেন আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে। সেই জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। দোয়া চেয়েছি আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে দ্রুত আমাদের কাছে ফিরে আসেন এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান তিনি যেন অতি শিগগিরই আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে আমরা আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ‘ঈদ মোবারক’। আপনাদের মাধ্যমে আমরা পুরো দেশবাসীর কাছে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, ‘ঈদ মোবারক।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে এসেছিলাম। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহ তা’লার কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছি। আমরা একইসঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছি।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আজম খান, আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল আলম নিরব, মীর নেওয়াজ আলী, রফিক শিকদার, এসএম জাহাঙ্গীর, আমিনুল হকসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।