বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরে শুরু হয়েছে ‘অষ্টমী স্নান উৎসব’। শনিবার (৫ এপ্রিল) ভোর থেকে এই স্নান উৎসব শুরু হয়, যা চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজারো পুণ্যার্থী অশোকা অষ্টমী উপলক্ষে এই স্নানে অংশ নিয়েছেন।
এই উৎসব ঘিরে কেউ পালন করছেন পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য ধর্মীয় আচার, কেউ বা করছেন পূজা-অর্চনা। অনেকে সন্তানদের প্রথম চুল কাটানোর মতো পারিবারিক ধর্মীয় কার্যক্রমও সম্পন্ন করছেন।
দু’শো বছরের পুরনো এই উৎসব উপলক্ষে দুর্গাসাগরের পাশের চন্দ্রদ্বীপ ইনস্টিটিউশনে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলা। মেলায় উঠেছে বাঁশ, মাটি, কাঠের নানা শিল্পকর্ম। স্বরূপকাঠীর ব্যাট ও উজিরপুরের ঢাক-ঢোলও স্থান পেয়েছে মেলায়।
ঢাকার সূত্রাপুর থেকে আগত স্বর্ণালী শিকদার জানান, তিনি তার যমজ দুই মেয়ে অয়ন্তী ও অন্বেষাকে নিয়ে এসেছেন এখানে। তাদের চুল কাটানোর পর পরিবার নিয়ে স্নান করেন। স্বর্ণালীর বাবার বাড়ি বরিশালে হওয়ায়, এই উৎসব তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
পুলিশ লাইনের বাসিন্দা শুক্লা পোদ্দার বলেন, ‘প্রতিবছরই আমি এই স্নানে অংশ নিই। এটা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, আমাদের পারিবারিক আবেগেরও অংশ।’
এদিকে, দুর্গাসাগরের স্নানঘাটে শাঁখা বিক্রি করতে এসেছেন ঝালকাঠীর বাবুল দত্ত। তিনি জানান, ‘আমরা পাঁচজন একসাথে এসেছি, কিন্তু এবারের বিক্রি খুবই খারাপ। লোকসমাগমও তুলনামূলকভাবে কম।’
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দিলীপ দাস বলেন, ‘এই স্নান উৎসব প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। চন্দ্রদ্বীপের রাজা দুর্গাবতীর নামে এই দীঘি খনন করে দেন। সেই থেকেই স্নান উৎসব চলে আসছে। এবারে আমরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, যাতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নিতে পারেন।’
পুরোহিত শিবু চট্টোপাধ্যায় জানান, অষ্টমী স্নানের তিথি শুরু হয়েছে শনিবার (৫ এপ্রিল) ভোর ২টা ৭ মিনিটে, যা শেষ হবে রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে।
স্থানীয় ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের রাজা জয় নারায়ণের মা রানী দুর্গাবতী প্রায় ২৫০০ হেক্টর বিশিষ্ট এই দীঘিটি খনন করান। এরপর থেকেই এটি দুর্গাসাগর নামে পরিচিত হয় এবং অষ্টমী স্নান উৎসব চালু হয়।