মাদ্রিদের ঘুম ভাঙানো বার্তা, ভাগ্যের ওপর ভরসা করলে বিপদ ঘনিয়ে আসেই

'কিছুই হবে না' – এই বিশ্বাসটা কখনো কখনো ভয়ানক ছলনা হয়ে দাঁড়ায়। রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রেও যেন সেটাই হলো। বারবার ভাগ্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে লড়াই জেতা গ্যালাকটিকোরা এবার বুঝতে পারল, প্রতিবার সবকিছু তাদের পক্ষে যাবে না।

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হেরে লা লিগা শিরোপার দৌড়ে বড়সড় ধাক্কা খেলো কার্লো আনচেলত্তির দল। বার্সেলোনার চেয়ে এখন তারা পিছিয়ে ৪ পয়েন্টে, বাকি মাত্র ৮ ম্যাচ। নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের যুদ্ধে দুর্দান্ত সুনাম থাকলেও, এবার আর সেই চেনা গল্পটা লেখা হলো না। ৯৫তম মিনিটে হুগো দুরোর হেডে গোল খেয়ে বসে তারা।

পরিসংখ্যানে অবশ্য রিয়ালই ছিল প্রাধান্যশীল। ম্যাচের এক্সপেক্টেড গোল বলছে ৩.১৬–০.৪৬। ভিনিসিউস জুনিয়রের গোল, মিস হওয়া পেনাল্টি, এমবাপের পোস্টে মারা শট—সব মিলিয়ে আক্ষেপই ঝরল বেশি। ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক মামারদাশভিলি চোখধাঁধানো ছয়টি সেভ করে ম্যাচের নায়ক।

তবে দোষ শুধু ভাগ্যের নয়। লিগে পাঁচ ম্যাচে হার, সর্বশেষ সাত দিনে বার্নাব্যুতে আটটি গোল হজম—দলীয় গঠন এবং মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতিও স্পষ্ট। অ্যানচেলত্তির অভিমত, 'প্রতিপক্ষ খুব একটা সুযোগ ছাড়াই গোল করে দিচ্ছে।' সেটাই তো সমস্যা।

ডিফেন্সে একের পর এক পরিবর্তন, চোটের ধাক্কা, শুয়োমেনির নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে দলের ভারসাম্য চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে। যদিও আশার দিকটাও আছে। যারা রিয়াল সোসিয়েদাদ কিংবা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে শুরু করেছিল, তাদের অধিকাংশই আর্সেনালের বিপক্ষে থাকবেন না।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা মানসিকতা নিয়ে। রিয়াল যেন চাপে না পড়লে খেলতেই চায় না! সোসিয়েদাদের বিপক্ষেও সেই ম্যাচে ভিনিসিউসকে ধমক না দিলে হয়তো গোলটাই দেখা যেত না। ম্যাচটা অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে না গড়াতে রুদিগারের গোলে কোনোমতে বেঁচে যাওয়া। তার আগেও ছিল সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয়, লেগানেসের বিপক্ষে যুব দলে খেলা গনজালো গার্সিয়ার অভিষেক গোল।

চ্যাম্পিয়নস লিগেও চলতি মৌসুমে ভাগ্যের ছায়া বেশ স্পষ্ট। মিলান-লিভারপুলের কাছে হার, ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ফেরা—সব মিলে সাফল্যের গল্প যতটা বড়, ততটাই ভরসা রাখতে হচ্ছে শেষ মুহূর্তের জাদুকরিতে।

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই ধারা কতদিন চলবে? কবে আর ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নেবে না?

আর্সেনালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ লড়াই সামনে। সেখানেও যদি হার হয়, তাহলে কি আবার বার্নাব্যুতে সেই চিরচেনা ফিরে আসা দেখা যাবে?

সময়ই দেবে উত্তর। তবে সতর্কবার্তা এবার প্রকট—বারবার আগুন নিয়ে খেললে, একদিন পুড়ে ছাই হবেই।