ট্রাম্পের শুল্কমুক্ত চুক্তিতে আগ্রহী ইইউ

আমদানিকৃত সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে বড় পরিসরে বাণিজ্যযুদ্বের দামাম বাজিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে অর্ধ শতাধিক দেশ। এবার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে তারা প্রয়োজনে বাণিজ্যযুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন শুল্ক নিয়ে গত সোমবার লুক্সেমবার্গে বৈঠক করেছেন ইইউয়ের সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা। সেখানে সবাই একমত হয়েছেন যে, সর্বাত্মক বাণিজ্যযুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত। তবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যেও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ইইউ।

বৈঠকের পর ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ সাংবাদিকদের বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ব্যাপারে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে নিত্যপণ্য, পরিবহন ও ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শুল্কারোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইইউ প্রস্তুত বলেও জানানা তিনি। তবে প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দিতে ইইউয়ের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। এরপর মারোস সেফকোভিচও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আজ হোক, কাল হোক, আমরা অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসব এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করব। গত মার্চ মাসে ইইউর ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরোপের জবাবে তারা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। ওই শুল্কের ব্যাপারে মারোস সেফকোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আগমী ১৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফা এবং ১৫ মে থেকে দ্বিতীয় দফা পাল্টার শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে ইইউ। ইউরোপের ২৭টি দেশের এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। লুক্সেমবার্গের অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইইউ নেতারা এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১৬ মে থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর ইইউর এই নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হতে পারে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এই শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়িসহ আরও বিভিন্ন পণ্যে। এর পাশাপাশি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে আরও বহু পণ্যে। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে আসা অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে ফ্রান্স, ইতালির মতো ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলো।

এদিকে, আমদানিকৃত চীনা পণ্যের ওপর আরও অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর রবিবার পাল্টা পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই পরিমাণ শুল্ক আরোপ বেইজিং। চীন এই শুল্ক প্রত্যাহার না করলে দেশটির ওপর আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প চীনকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে চীন। দেশটি বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কাছে নতি স্বীকার করবে না। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ভুলের ওপরে আরেকটি ভুল। এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকমেইলিং স্বভাবকে উন্মোচিত করে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকা, তাহলে চীন শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।