খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলায় পাঁচটি সড়কে গড়ে উঠেছে বড় বাজার, একাধিক মার্কেট ও বহু বিপণিবিতান। তবে পাঁচটি সড়কের মধ্যে রেলওয়ে হাসপাতাল সড়ক, ক্লে-রোড ও পুরাতন যশোর সড়ক পুরোপুরি ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে। হেঁটে মানুষ ছাড়া এই সড়কগুলো দিয়ে কোনো যানবাহনই প্রবেশ করতে পারে না। বাকি লোয়ার যশোর রোড ও কেডি ঘোষ রোডের অর্ধেকেরও বেশি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় একদম সরু হয়ে পড়ছে। ফলে খুলনাবাসীর জন্য চরম ভোগান্তি, বিড়ম্বনা ও অস্বস্তিতে পরিণত হয়েছে কোটি মানুষের প্রিয় ডাকবাংলা। শুধু ডাকবাংলার এ সড়কগুলোই নয়; খুলনা মহানগরীতে যত্রতত্র সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে ভাসমান বাজার। অনেক পরিত্যক্ত জায়গায় বছর জুড়েই চলে অস্থায়ী বাজার ও নানা ধরনের মেলা। ফলে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মার্কেট বা বাজারসহ অন্য স্থায়ী মার্কেটগুলো ভুগছে ক্রেতাসংকটে। লোকসানের মুখে পড়ছেন স্থায়ী বিনিয়োগকারীরা। সিটি করপোরেশনও হারাচ্ছে রাজস্ব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের নিরালা-১ নম্বর রোড, খালিশপুর লেবুতলা মোড়ের সড়ক, নতুন রাস্তার কবীর বটতলা সড়ক, পেটকার বাজার সড়ক, কুলীবাগান-বউ বাজার সড়ক, মহেশ্বরপাশা হাসান খান রোড, কার্তিক কুল বউবাজার সড়ক, মানিকতলা সড়ক, গল্লামারী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক, সোনাডাঙ্গা থানা রোড, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারসংলগ্ন সড়ক ও মাংস পট্টি সড়ক, রূপসা স্ট্যান্ড, জাতিসংঘ পার্কের পাশের দক্ষিণ পাশের সড়ক, আইনজীবী সমিতির সামনের সড়ক, সদর থানার সামনের সড়ক ও সিভিল সার্জন অফিসের সামনের সড়কসহ বহু সড়কে প্রতিদিনই ভাসমান বাজার বসে। সড়কের বেশিরভাগ অংশ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকে।
এ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাকবাংলা মোড়ে অধিকাংশ দোকানঘর মালিকরা তাদের সামনের সড়ক ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করছেন। এ ছাড়া ক্ষমতা পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনেকেই চাঁদা তুলছে। পুলিশও প্রতিদিন চাঁদা নেয়। ফলে সুবিধা নিয়ে সড়কগুলো এভাবে তারা দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে সড়ক দখলে সরু হওয়ায় নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে ব্যবহার করতে পারছে না।
বিশেষ করে কোনো যানবাহন মার্কেটে প্রবেশ করতে পারে না। মানুষের কেনাকাটা করে পরিবহনে আনার সুযোগই নেই। এতে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের লোভের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য সড়কগুলো দখল করে ভাসমান বাজার বসায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডাকবাংলায় পিকচার প্যালেস সিনেমা হল ভবন ভেঙে সেখানে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছে মার্কেট, শিববাড়ি পরিত্যক্ত জিয়া হল ভবন অপসারণের পর সেখানেও তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মার্কেট।
স্থায়ী ব্যবসায়ীরা বলেন, কিছু নেতা ও দপ্তরকে ম্যানেজ করে উন্মুক্ত জায়গা, মাঠ ও পার্ক দখল করে মাসের পর মাস মেলা বা অস্থায়ী মার্কেট হওয়ায় মানুষ বিশেষ করে শিশুরা বিনোদন ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি অস্থায়ী মার্কেটে মানহীন পণ্যে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এতে খুলনার ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। এ ছাড়া করপোরেশনের নির্ধারিত বাজার বা মার্কেট রয়েছে। স্থায়ী ব্যবসায়ী কর দিয়ে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা করছেন। অথচ নগরীতে ভাসমান বাজার ও অস্থায়ী মার্কেটের কারণে মূল মার্কেটগুলো কানা হয়েছে যাচ্ছে। এতে স্থায়ী ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি করপোরেশন মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের বাজার সুপার গাজী সালাউদ্দিন বলেন, সড়ক ও ফুটপাত উন্মুক্ত রাখতে একাধিকবার জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তবে কোনো কাজ হয়নি। এ ক্ষেত্রে পুলিশের গাফিলতিতে তিনি দায়ী করেন তিনি।
তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, পুলিশ চাঁদা নিয়ে সড়ক, ফুটপাত ও মার্কেটে কাউকে বসানোর সুযোগ নেই। তবে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা তোলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।