গবেষণাগারে ফিরল ১২৫০০ বছর আগেই বিলুপ্ত নেকড়ে!

এইচবিওর টিভি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’ যারা দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই ডায়ার ওলফের (সাদা নেকড়ে) কথা মনে আছে। হাউজ স্টার্কের প্রতীক ছিল এটি। নেড স্টার্কের প্রতিটি সন্তানের সঙ্গী ছিল একটি করে ডায়ার ওলফ এটি শুধু তাদের পোষা প্রাণী নয়, বরং ছিল তাদের নির্ভরযোগ্য রক্ষাকবচ। প্রাগৈতিহাসিক এই ভয়ংকর শ্বেত বা সাদা নেকড়ে এতদিন শুধু কাল্পনিক জগতে থাকলেও এবার বাস্তবে তাদের ‘পুনর্জন্ম’ ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডায়ার ওলফকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্স। তারা দাবি করেছে, এটি পৃথিবীর প্রথম সফলভাবে পুনর্জীবিত হওয়া বিলুপ্ত প্রাণী।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে চমৎকার এক তুষার শুভ্র সাদা নেকড়ের ছবি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। যার শিরোনামে বিলুপ্ত ডায়ার নেকড়েটির প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন এ সাময়িকী।

একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি দাবি করেছেন, এ বিলুপ্ত নেকড়ে প্রজাতিকে ফিরিয়ে এনেছেন তারা। এমন দাবি করেছেন মার্কিন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ‘কলোসাল বায়োসায়েন্সেস’-এর বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু, তাদের এমন দাবি কি সত্যি? গত সোমবার কলোসাল একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে, যেখানে রোমুলাস ও রেমাস নামে দুটি নেকড়ে ছানাকে হেসে-খেলে বেড়াতে ও আওয়াজ করতে দেখা যাচ্ছে। রোমের পৌরাণিক দেবতাদের নামে এদের এমন নাম রেখেছে কোম্পানিটি। কলোসাল বায়োসায়েন্সেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘১০ হাজার বছরেরও বেশি সময় পর আপনি এই প্রথমবারের মতো ডায়ার নেকড়ের গর্জন শুনতে পাচ্ছেন। রোমুলাস ও রেমাসের সঙ্গে দেখা করুন। এরা বিশ্বের প্রথম এমন বিলুপ্ত প্রাণী, যাদের আবার জন্ম হয়েছে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর।’

এদিকে, ‘গেম অব থ্রোনস’-এর এক জনপ্রিয় চরিত্রের নামানুসারে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ‘খালিসি’ নামের আরেকটি নেকড়ে ছানা দেখিয়েছে কোম্পানিটি।

কলোসাল হচ্ছে সেই কোম্পানি, যারা বিলুপ্ত ‘উলি ম্যামথ’কে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে উলির ইঁদুর তৈরি করেছিল। তাদের লক্ষ্য, ‘জেনেটিক্সের বিজ্ঞানকে আবিষ্কারের সঙ্গে একত্র করে’ বিলুপ্ত প্রাণীকে আবার ফিরিয়ে আনা।

এক্স পোস্টে কলোসাল বলেছে, কীভাবে তারা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব ছানাকে ‘বিলুপ্তি থেকে আবার ফিরিয়ে এনেছে’।

ছানা তৈরিতে এসব জিন এসেছে পুরোপুরি ডায়ার নেকড়ের জিনোম থেকে, যা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে পাওয়া ১৩ হাজার বছরের পুরনো ডায়ার নেকড়ের দাঁত ও আইডাহো থেকে ৭২ হাজার বছরের পুরনো এর কানের হাড়ের জীবাশ্মে পাওয়া প্রাচীন ডিএনএ-তে। এগুলো ‘সাবধানতার সঙ্গে পুনর্গঠন’ করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি ধূসর নেকড়ের ১৪টি জিনের ২০টি স্থানে ডিএনএ বদল করেছে, যাতে তাদের তৈরি নেকড়ের মধ্যে হালকা রঙের কোট, চুলের দৈর্ঘ্য, শরীরের আকার ও দেহের পেশির মতো নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা যায়। টেস্টটিউব বেবির মতো এই জিন বর্তমানে জীবিত ধূসর নেকড়ের ডিম্বানুতে প্রবেশ করান গবেষকরা।

তারপর ভ্রুণটি সারোগেট পদ্ধতিতে একটি কুকুরের জরায়ুতে বেড়ে ওঠে। এরপর জন্ম হয় কোম্পানিটির দাবি করা ডায়ার নেকড়ের।

তবে এরা বিলুপ্ত ডায়ার নেকড়ের পুরোপুরি জেনেটিক ম্যাচ নয়। এরা শুধু ডায়ার উলফ থেকে পাওয়া অল্প কিছু জিনওয়ালা ধূসর নেকড়ে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।