বিপুকে ‘বিদ্যুৎচোর’ আখ্যা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম নিজ দলের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুকে ‘বিদ্যুৎ চোর’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তাদের সরকারের সময়ের চাইতে এবারের রমজানে তেমন লোডশেডিং হয়নি বলেও জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিপুকে সর্বকালের সেরা বিদ্যুৎ চোর হিসেবে আখ্যা দিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। তার এই স্ট্যাটাসটি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

পোস্টে সিদ্দিকী নাজমুল উল্লেখ করেছেন, ‘যে শালারা লুটপাট করে দলটাকে শেষ করলেন। অতিরঞ্জিত, অতিকথনে টেলিসামাদ স্টাইলে রাজনীতিকে জোকারিতে পরিণত করলেন। তাদের বিরুদ্ধে লেখলেই একদলের জ্বালা ওঠে এভাবে যে, এখন ঐক্যের সময়, এখন এগুলো লেখা যাবে না। আবার ক্ষমতায় গেলে, এসব নিয়ে আলোচনা করা যাবে। মোটকথা, তাদের কথা হলো আমরা তাদের পক্ষে লিখে তাদের সব হালাল করব, আমরা আমাদের পরিবার জীবন দেব আর তারা সুটেট-বুটেট হয়ে আবার আমাদের নেত্রীর চারপাশ দখলে রাখবেন।’ তিনি লেখেন, ‘অনেক দিন নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে চুপ থাকলাম, কিন্তু আমার মাথায় আসে না, আমাদের নেত্রী ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নতিসাধন করেছেন। কিন্তু আমাদের সরকারের সময়ের চাইতে এবারের রমজানে তেমন লোডশেডিং হয়নি। তার মানে হলো প্রধানমন্ত্রীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদ্যুৎ চোর বিপু এবং কিছু বিদ্যুৎ চোর আমলাদের সমন্বয়ে কৃত্রিম লোডশেডিং তৈরি করত এবং নিজেদের পছন্দের পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবসায়ীদের রমরমা একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে সিন্ডিকেট করে কমিশন কামাত।’

‘বিদ্যুৎ চোর বিপু বড় ব্যবসায়ী বংশের রাজনৈতিক নেতার ছেলে ছিলেন আমাদের নেত্রী ভালো চিন্তা করেছিলেন, মনে করেছিলেন, বড় লোকের ছেলে দায়িত্ব দিলে দুর্নীতি করবেন না। কিন্তু না, নেত্রীর বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে সর্বকালের সেরা বিদ্যুৎ চোরে পরিণত হয়েছেন বিপু।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বিপু একটা চোর চোর চোর। ওর বউ চোর, ভাই চোর, সন্তানরা চোর। ওদের গত ১০ বছরের চলাচল দেখলে মনে হয়, বিপু রাজা আর আমরা প্রজা।’ নাজমুল লেখেন, ‘বিপুর সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য বিএনপি জামায়াতের নেতারা অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দেখাশোনা করছেন। বিপুরা ক্ষমতা এবং টাকার কারণে নিজেদের ঈশ্বর মনে করতেন।’

তিনি পোস্টে লেখেন, ‘চরিত্রহীন লম্পট পরিবার বিপুর পরিবার। ওই পরিবারের পুরুষদের চাইতে নারীরাও পিছিয়ে নেই। এই চোরের চুরির কারণে এবং বিপুর কেরামতিতে রাজনীতি রাজপথ থেকে এসি রুমে চলে গেছে, ফাইভ স্টারে নিয়ে গেছেন তিনি রাজনীতিকে। ছাত্র-যুবক-শ্রমিক থেকে করপোরেট নিয়ে গেছেন। ফলশ্রুতিতে আমরা ধ্বংস হয়েছি আর মুসলমানরা ফিলিস্তিনিদের রক্ষার জন্য যেমন আবাবিল পাখির অপেক্ষায় বসে আছেন আর আমরা আওয়ামী লীগের লোকজন শক্তিশালী কিংবা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অপেক্ষায় বসে আছি। যে তারা আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ’

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলাকার রাজনীতিতেও বিপু জিরো। পুরো রাজনীতিটা করেন ওইখানে শাহীন চেয়ারম্যান। অত্যন্ত জনপ্রিয় কর্মীবান্ধব দুঃসময়ের শাহীন চেয়ারম্যানের সাজানো বাগানের মালিক হলো বিপু অথচ শাহীন চেয়ারম্যানের মতো পুরনো মানুষের সঙ্গে উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন বিপুর ব্যক্তিগত সহকারী এক ইয়ো ইয়ো বয়কে।

ফেসবুক পোস্টে নাজমুল ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, বিপু কিন্তু তার ছেলেমেয়েদের লাক্সারিয়াস লাইফ লিড করাচ্ছেন। কিন্তু আমি আপনি আমাদের ছেলেমেয়েদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছি। আমি সরকারি দলে থাকতেও সমালোচনা করেছি, নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিয়েছি, বড় বড় রথী মহারথীদের সঙ্গেও অন্যায় ইস্যুতে ছাড় দিইনি দেবও না। নেত্রী জীবিত যত দিন থাকবেন, তত দিন রাজনীতি করার চেষ্টা করব। আমার স্পষ্ট অবস্থান নেত্রী যেদিন থাকবে না, সেদিন থেকে আর রাজনীতিও করব না। দীর্ঘ পোস্টের সবশেষে তিনি লেখেন, ‘নেত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে অনেকবারই বলেছেন এই আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া সবাইকে কেনা যায়। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমি শতভাগ বিশ্বাস করি এবং মানি।’