রোদের তাপে ঝলসে যাওয়া মুখ, ঘামে ভেজা জামা, কণ্ঠ ফাটানো স্লোগানে গমগম করছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। চারদিক থেকে উঠে আসছে একটাই আওয়াজ—‘তুমি কে, আমি কে? ফিলিস্তিন! ফিলিস্তিন!’ কারও হাতে ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’, কারও হাতে ‘গাজা রক্তে রঞ্জিত, বিশ্ব কেন নীরব?’ লেখা প্ল্যাকার্ড। উড়ছে লাল-সবুজের সাথে সাদা-কালো-লাল-সবুজের পতাকা। এ যেন ঢাকার বুকে এক টুকরো গাজা নেমে এসেছে।
আজ শনিবার ইসরায়েলের চলমান হামলা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশে আয়োজন করা হয়েছে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। সমাবেশ শুরুর আগেই সকাল থেকে লাখো মানুষের পদচারণায় জনসমুদ্র হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং তার আশপাশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ‘মার্চ ফর গাজা’র মঞ্চে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এছাড়াও মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ—সবাই একসঙ্গে একাত্ম হন এই কর্মসূচিতে। প্রায় সবার হাতে ব্যানার, তাতে লেখা—‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘গাজা উই আর উইথ ইউ’, ‘স্টপ জেনোসাইড ইন গাজা’। কেউ আবার ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রতীকী প্রতিবাদের মিছিল নিয়ে।
এই সমাবেশে বক্তারা সরাসরি গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই নৃশংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আরও জোরালো কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবু মূসা বলেন, ‘আজ আমরা গাজার নিঃশব্দ কণ্ঠ হয়ে এসেছি। ফিলিস্তিনে প্রতিদিন শিশু মরছে, মা কাঁদছে। এই দৃশ্য আর মেনে নেওয়া যায় না। জাতিসংঘ ও মুসলিম বিশ্ব নীরব, আর এই চুপচাপ থাকাই ইসরায়েলকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশেরও জোরালো অবস্থান নেওয়ার।’
একই স্বর শোনা যায় মাদ্রাসাশিক্ষক আব্দুস সবুরের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘গাজার প্রতিটি শিশু, প্রতিটি নারী আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মানবতা আজ চোখে পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে। যদি এখনই আমরা রুখে না দাঁড়াই, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।’
সূর্য যখন দিনের ক্লান্তি টানছিল, ঠিক তখনই গর্জে উঠছিল জনতা। ‘মার্চ ফর গাজা’র সূচনা মুহূর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয় এক অভিন্ন প্রতিবাদে—যেখানে কণ্ঠ মিলেছে গাজার কান্নার সাথে, আর প্রতিটি পতাকা বলেছে—ফিলিস্তিন, তোমার পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ।