সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ০৪:০৫ পিএম

দেশে-বিদেশে সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ন্যাশনাল সলিডারিটি ফর ফ্রি প্যালেস্টাইন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক সচিব, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকরা অংশ নেন।

ফিলিস্তিনের গাজায় নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সংহতি জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সংহতি জানিয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাস গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, এটাই প্রকৃত কথা নয়, এ জন্য আপনাকে তাদেরকে (ফিলিস্তিন) অর্থায়ন করতে হবে। ফিলিস্তিনদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুল-ভ্রান্তি সব ভুলে যেতে হবে। পাকিস্তান আমাদের প্রতি যে অন্যায় করেছিল, সে জন্য তাদেরকে ক্ষমা করে দিতে হবে। তারা (পাকিস্তান) সহ তুরস্ক, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ সকলকে নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘একইভাবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে কাশ্মীরের জন্য এবং ভারতে মাওবাদীরা আন্দোলন করছে তাদেরকে সমর্থনের জন্য। আমরা যদি এটা না করি তাহলে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি ফিলিস্তিনের জনগণের লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। আমাদের লড়াইয়ের বাতি জ্বালাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন ধর্মীয় কথা বললেও সাম্রাজ্যবাদের পা চাটে। এর মধ্যে অনেকেই আছেন সাহস করে করে কথা বলেন না বা বলতে চান না। আমাদের আরও সাহসী হতে হবে। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছি। আমরা এই সভার আয়োজন করেছি নির্দলীয় ভিত্তিতে, জাতীয় আবেদনে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেকে একক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই গাজায় এই নির্লজ্জ হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটা একটা যুদ্ধ মেশিন। একে যুদ্ধের মাধ্যমেই শেষ করতে হবে।

সাবেক গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, অনেক বছর যাবৎ এই অন্যায় চলছে। সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই। কিন্তু এবার কিছুটা আশার আলো দেখছি। কারণ সারা বিশ্বে সাধারণ বিবেকবান মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানও ইসরায়েলের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) নুরুদ্দিন খান বলেন, ইসরায়েল যে একতরফা আক্রমণ করেছে তা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আধুনিক বিশ্বে এই জঘন্য অপরাধ চলতে পারে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ফিলিস্তিনে যা ঘটছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও জঘন্য অপরাধ। জায়নবাদ যেভাবে ফিলিস্তিনিদের সকল অধিকার হরণ করেছে, তার প্রতিবাদে আমাদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।

সাবেক ছাত্রনেতা মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, একুশে পদক প্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ড. সুকোমল বড়ুয়া, সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, কমরেড খালেকুজ্জামান আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার, সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত