মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ কখন কীভাবে করবে সেটার নির্দেশনা রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় দেখলে সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে, যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন মুখে প্রতিবাদ করে। আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন মনে মনে তা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করে। এটাই ইমানের দুর্বলতম স্তর।’ (সহিহ মুসলিম)
হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, যদি কোনো জাতির মধ্যে কোনো ব্যক্তি গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় এবং ওই জাতির মধ্যে শক্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে সেই গুনাহ থেকে বাধা না দেয় তবে মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই তাদের ওপর মহান আল্লাহর আজাব নাজিল হয়। (ইবনে মাজাহ)
অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার কারণে যখন শাস্তি নাজিল হবে তখন দোয়া করলেও সেই শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো পথ থকাবে না। এ সম্পর্কে হুযাইফা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম করে বলছি, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে। তা না হলে অচিরেই আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের ওপর কঠিন শাস্তি নেমে আসবে। তখন তোমরা (সেই শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য) দোয়া করবে, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না। (জামে তিরমিজি)
আমাদের চারপাশে অনেক অন্যায় ও অরাজক কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হলো, সেটা নিজ শক্তি দ্বারা প্রতিহত করা। শক্তি প্রয়োগে অক্ষম হলে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করা। মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করতে না পারলে মনে মনে ঘৃণা পোষণ করা।