পরমাণু ইস্যুতে ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওমানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও টানাপড়েনের মধ্যে রাজধানী মাসকটের এ বৈঠক বেশ কিছু কারণে গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। বৈঠকের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তার দেশ একটি ন্যায্য চুক্তি চায়। ওমানে দুপক্ষ একই কক্ষে সরাসরি আলোচনায় বসেছে কি না তা স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে আলোচনার সূচনাকে একটি চুক্তির পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শনিবারের এই বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনার জন্য একটি কর্মকাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর হওয়া ওবামা-আমলের পামাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিবর্তে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আরও ভাল একটি চুক্তি করার কথা বলে আসলেও ইরান বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা একদিকে যেমন আশার সঞ্চার করছে, তেমনি আলোচনায় কোনো ফল না এলে অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা মারাত্মক আকার ধারণ করবে এমন আশঙ্কাও আছে। কোনো চুক্তি না হলে ইরানে সামরিক বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টায় ইরান সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হয়েছে।

ওমানে আলোচনায় আরাগচি ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কী ধরনের চুক্তিতে সম্মত হবে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিপক্ষে। তবে, ইরান চায় কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা হোক, কিন্তু নির্মূল যেন করা না হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, সমান অবস্থান থেকে একটি ন্যায্য এবং সম্মানজনক চুক্তিতে উপনীত হওয়াই আমাদের অভিপ্রায়। অপর পক্ষও যদি একই অবস্থান থেকে এসে থাকে তাহলে প্রাথমিকভাবে একটি বোঝাপড়া হওয়ার সুযোগ থাকবে। যা থেকে আমরা আলোচনার পথে এগিয়ে যাব।