বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলমের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, মেঘনাকে ৩০ দিনের জন্য আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, তবে তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে পরোয়ারা ছাড়া এবং কোনো কারণ উল্লেখ করে মডেল মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টার বেশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে হেফাজতে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত।
সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা জানান, মেঘনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মডেল মেঘনার ব্যাপারে কিছু অভিযোগ আছে, সে বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মেঘনার আটকাদেশ কেন বেআইনি হবে না, হাইকোর্টের রুল : পরোয়ারা ছাড়া এবং কোনো কারণ উল্লেখ করে মডেল মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার, ২৪ ঘণ্টার বেশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে হেফাজতে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি রুলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মেঘনা আলমকে দেওয়া আটকাদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে মডেল মেঘনাকে আটক করে হেফাজতে নেয় ডিবি। পরদিন ১০ এপ্রিল রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেয় আদালত।
গতকাল শুনানি শেষে ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত তিন দিন মেঘনা আলমের পরিবারের কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। কোনো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে দেওয়া হয়নি। আর যেভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে, আটক রাখা হয়েছে; দুটোই ভুল প্রক্রিয়া। এজন্য আমরা হাইকোর্টে এসেছি। হাইকোর্ট আটকের প্রক্রিয়া ও আটকাদেশ কেন অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে না এ মর্মে রুল দিয়েছেন।’
মেঘনাকে কারাগারে পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘন : এইচআরএফবি
মেঘনা আলমকে আটক এবং বিশেষ আইন ব্যবহার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। সংগঠনটি মেঘনার মুক্তির পাশাপাশি বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। গতকাল এইচআরএফবির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, খুশী কবির, শাহীন আনাম, রাজা দেবাশীষ রায়, সারা হোসেন, রোকেয়া রফিক বেবী, ফওজিয়া মোসলেম, সঞ্জীব দ্রং, শামসুল হুদা, জাকির হোসেন, রঞ্জন কর্মকার, সালেহ আহমেদ, সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, পল্লব চাকমা প্রমুখ।
মেঘনাকে কারাগারে পাঠানোর সমালোচনা করে এইচআরএফবি বলেছে, রাতের আঁধারে যেকোনো নাগরিকের বাসায় বলপূর্বক প্রবেশ করে কাউকে আটক করা মানবাধিকার মানদ-ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বিচার না করেই শুধু ‘জননিরাপত্তা’ বা ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা’র অজুহাতে আটক রাখা যেতে পারে। এই আইনকে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞরা নিপীড়নমূলক আইন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংগঠন এবং মানবাধিকারকর্মীরা এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এইচআরএফবি এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।