টানা কয়েক দিন ধরে দেশে যে গরমের তীব্রতা চলছে, তার মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার জনজীবনে স্বস্তি ফেরার কথা বলেছেন নগরবাসী। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। এ সময় অনেককে ভিজে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। এর আগে দুপুর থেকেই মেঘে আচ্ছন্ন ছিল ঢাকার আকাশ। পরে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। দমকা বাতাসে সঙ্গে সঙ্গে ছিটেফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা মেলে এ সময়। বিকেলের পরে নামে ভারী বৃষ্টি।
এদিকে গতকাল ঢাকা ছাড়াও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বজ্রপাতে গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহে বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছে।
দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৈশাখ মাসে এমন কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি স্বাভাবিক। চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত দেশে বেশ কয়েকটি কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী তিন দিন দেশ জুড়েই এমন বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, ‘সারা দেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হবে, থেমে যাবে, আবার হবে এমনই চলবে। কখনো বেশি, কখনো কম। এ সময় তাপমাত্রাও সহনশীল থাকবে।’
নিয়মিত বুলেটিনে আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে টানা গরমের মধ্যে বৃষ্টি নগরবাসীর জীবনে স্বস্তি নিয়ে এসেছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। মতিঝিলের বাসিন্দা নিবিড় হাসান জানান, ‘বৃষ্টির কারণে গরম কমেছে, তাই স্বস্তি পাচ্ছি।’ শান্তিনগরের বাসিন্দা আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভ্যাপসা গরম থেকে বৃষ্টি জরুরি ছিল। কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে, যানজট তৈরি হয়েছে। পরিবহন পাচ্ছি না। তবে অস্বস্তি লাগছে না।’ সরেজমিনে পল্টন, শান্তিনগর, ইস্কাটন, বাংলা মোটর ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে যানজট তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে পথচারীদের।
গাজীপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু : গাজীপুরের কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন, কাপাসিয়া উপজেলার ভূলেশ্বর এলাকার মৃত আব্দুল আওয়ালের ছেলে কৃষক ইফাজ উদ্দিন (৬৫) ও কালীগঞ্জ উপজেলার টেক মানিকপুর এলাকার রজব আলীর ছেলে শুকুর আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কাপাসিয়ার ভূলেশ্বর গ্রামের ইফাজ উদ্দিন গরু আনতে মাঠে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের টেক মানিকপুর এলাকার কৃষক শুকুর আলী দুপুর ১টার দিকে মাঠে কাজ করতে যান । এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন আলী বলেন, কৃষক শুকুর আলী দুপুর মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান।
হবিগঞ্জে দুই ধানকাটা শ্রমিক নিহত : হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের হাওরে বজ্রপাতে দুজন ধান কাটার শ্রমিক নিহত হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এলাকার মনিরুল ইসলাম (২২) ও একই এলাকার কপিল উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সকালে শিবপাশা গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে ধান কাটতে যায় একদল শ্রমিক। বিকেলে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে মনিরুল ও কপিল উদ্দিন বজ্রাঘাত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল হাছান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নান্দাইলে তরুণীর মৃত্যু : ময়মনসিংহের নান্দাইলে বজ্রপাতে হাসমা আক্তার (২২) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর একটার দিকে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাদারিনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাসমা একই গ্রামের নুরুল হকের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় দক্ষিণ আকাশে কালো মেঘ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দেখা যাচ্ছিল ও টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল । এমন সময় হাসমা কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে বজ্রপাতের কবলে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।