ইয়েমেনের তেল বন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ৭৪

ইয়েমেনের রাস ইসা তেল বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০২ জন। হোদেইদাহ স্বাস্থ্য অফিসের বরাত দিয়ে দেশটির আল মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল এ সংবাদ জানায়। খবর আলজাজিরার।

গতকাল ভোরের দিকে আল মাসিরাহ টিভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে রাস ইসা বন্দরের রাতের আকাশ বিশাল বিস্ফোরণে আলোকিত হতে দেখা যায়। আল মাসিরাহ তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে ধ্বংসের একই রকম দৃশ্য এবং গুরুতরভাবে দগ্ধ বন্দরকর্মীদের সাক্ষাৎকার সংবলিত কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত বিমান হামলায় একই পরিবারের ১০ জনসহ ১৫ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের আলাদা দুই হামলায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল শুক্রবার গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করে। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের বানি সুহাইলা এলাকায় ইসরায়েলি দখলদারি বাহিনীর হামলার শিকার হওয়া বারাকা পরিবারের বাড়ি ও আশপাশের বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর গাজার তাল আল-জাতার এলাকায় আলাদা আরেকটি হামলা হয়েছে। সেখান থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ছিল।

এদিকে, গাজায় অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর হামাস সব ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ সমাপ্তিতে সামগ্রিক একটি চুক্তির দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি চেয়েছে তারা। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা খলিল আল-হায়া বলেছেন, এখন থেকে তারা আর কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মত হবে না। হামাস বরং এখনই সামগ্রিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, গাজার পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সব বন্দি বিনিময়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হামাসের এসব দাবি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে। আল-হায়া বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অনাহারে রেখে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এসব আংশিক চুক্তিতে দিয়ে ইসরায়েলি সরকার তাদের আসল উদ্দেশ্য আড়ালে রাখে। কিন্তু স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের জিম্মিদেরও বলি দিতেও পিছপা হবে না তারা। আমরা তাদের এ খেলার অংশ হব না।