ইস্টারের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন

পরস্পরকে দোষারোপ কিয়েভ-মস্কোর

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন শনিবার রাত থেকে রবিবার মধ্যরাত (মস্কো সময়) পর্যন্ত ফ্রন্টলাইনে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষই এক দিনের জন্য ঘোষিত সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রুশবাহিনী যুদ্ধবিরতির নামে ভান করছে অথচ রাতভর বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা দাবিতে জানিয়েছে, মস্কো নয় ইউক্রেনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

গতকাল রবিবার জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রাশিয়া ২৬টি আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি বলেন, হয় পুতিন তার সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন অথবা রাশিয়া প্রকৃত শান্তি চায় না। তারা শুধু ইতিবাচক প্রচারের জন্যই এমন ঘোষণা দেয়। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই রুশ সেনারা ৫৯ বার গোলাবর্ষণ করেছে। জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ চায় যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়াতে। তবে রাশিয়া যদি লড়াই চালিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধের মাত্রা কিছুটা কমেছে। রাশিয়ার কয়েকজন সামরিক ব্লগারও একই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা দাবিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও কিয়েভ রুশ ভূখণ্ডে এক হাজার বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ অবস্থানে ৪৪৪ বার গুলি ছুড়েছে এবং ৯০০-এরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ক্রিমিয়া ও ব্রায়ানস্ক, কুরস্ক এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এর ফলে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবি যাচাই করতে পারেনি।