দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে লক্ষ্যে যুদ্ধরত উভয়পক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে এখন পর্যন্ত তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন চলতি সপ্তাহেই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাবে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, দুই দেশ যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছে যায় তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ব্যবসা করতে পারবে। আর এই ব্যবসা থেকে বিশাল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করবে! কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন উন্নতির পথে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশের সঙ্গেই সমঝোতার পথ খুঁজতে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। এমনকি সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। আর তেমনটা হলে যুক্তরাষ্ট্র এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে যাবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে আবারও একে অপরের বিপক্ষে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যদিও যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার আগেই দুপক্ষই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। কিয়েভের কান্ডার ইন চিফ সিরস্কি বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেও ড্রোন আক্রমণ করেছে এবং গোলা ফেলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কো অন্তত দুই হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের আক্রমণের জবাবে তারা প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, আগামী ৩০ দিনের জন্য বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রাখা হোক। পরে তার মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। এভাবেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। জেলেনস্কির মতে, যদি রাশিয়া এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তার অর্থ তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তারা ইউক্রেনের হামলা প্রতিহত করেছে।