জুলাই অভ্যুত্থানের পর অজ্ঞাত আসামি নিয়ে চলেছে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন ম-লের ওপেন সিক্রেট ঘুষবাণিজ্য। এ ছাড়া দেখে দেখে বড় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কারখানার নিয়ন্ত্রণকারী ঝুট ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে টোপ ফেলেও ঘুষ আদায়ের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। কথিত আছে, অজ্ঞাত আসামি গ্রেপ্তারের সময় আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেন ওসি। ঝুট ব্যবসা থেকে মাসোহারা হিসেবে আদায় করতেন দেড় লাখ টাকা।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর শ্রীপুর মডেল থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন জয়নাল আবেদীন ম-ল। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ লেগেই আছে। সম্প্রতি এক ঝুট ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওসির নিয়মিত টাকা লেনদেন সম্পর্কিত প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। সেই কথোপকথনের অডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেই অডিওর তথ্য খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসে হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি ধরে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার খবর। দুদিন ধরে কথোপকথনের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিওর বিষয়ে ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার জানান, আরও দুই মাস আগের কথা বলার অডিও। তবে কীভাবে এ অডিওটি ফাঁস হলো এটি তার জানা নেই। তিনি দাবি করেন, তার মোবাইল ফোন হারানোর পর এটি ফাঁস হয়েছে বলে ধারণা করছেন।
তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এমনটি তার নলেজে নেই। সারা দিন বহুজনের সঙ্গে ভালোমন্দ কথা বলা লাগে। অডিও ফাঁসের বিষয়টি তিনি জানেন না।
গাজীপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম সিকদার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিগত সময় বেশ কয়েকটি কারখানার ঝুট ব্যবসা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও সেলিম তার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন সবাইকে ম্যানেজ করে।
সেলিম সিকদার জানান, অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করছিল শ্রীপুর থানা পুলিশ। পরে ওই গ্রেপ্তারে এক মাস জেল খেটে বের হয়েছিলেন তিনি। তিনি দাবি করেন গ্রেপ্তার করার দিন (অজ্ঞাত আসামি) তার কাছ থেকে ওসি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন।
এদিকে ফাঁস হওয়া ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই অডিও কথোপকথনে টেলিফোনের অন্যপ্রান্তে ওসিকে বলতে শোনা যায়, তিনি স্থানীয় একজনের মধ্যস্থতায় সেলিম সিকদারকে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয় ওই ব্যক্তিকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিলে বিনা বাধায় ঝুট বের করে নিয়ে যেতে পারবেন বলে ওসি সেলিম সিকদারকে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। অডিওর একপর্যায়ে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর নানা আমাকে দেখে না কেন। আমি এত কিছু করতেছি। চাপ নিতেছি। তোর নানাকে বলে আমাকে লাখ পাঁচেক টাকা দিস।’