জমি জবরদখলের শাস্তি

জমিজমা নিয়ে বিরোধ, প্রতারণা ও জবরদখলের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বহু মানুষ সম্পদের মোহে পড়ে অন্যের হক দখল করে নিচ্ছে, কখনো সরাসরি দখলের মাধ্যমে, কখনো আবার কাগজপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে। এ ধরনের অন্যায় কাজ শুধু একজন মানুষ বা পরিবারের ক্ষতির কারণ নয়, বরং গোটা সমাজের জন্যই অশান্তি ও অনৈক্যের বীজ বপন করে। ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এক বিঘত জমিও জবরদখল করে নেবে, কেয়ামতের দিন তার গলায় সেই জমি সাত তবক পর্যন্ত পেঁচিয়ে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি) অর্থাৎ যারা অন্যের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে বা কাগজপত্রের কারচুপির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে, তারা শুধু এই দুনিয়ায় অপরের হক নষ্ট করছে না, বরং নিজেদের জন্য আখেরাতে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে নিচ্ছে।

বর্তমানে অনেকেই আইনজীবী বা দালালের সহায়তায় ভুয়া দলিল তৈরি করে, মিথ্যা সাফ-কবলা তৈরি করে অথবা মিথ্যা সাক্ষী দাঁড় করিয়ে জমি নিজের নামে নিয়ে নেয়। এসব কাজ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মারাত্মক গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের জমি অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করবে, সে জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম)

জমিজমা নিয়ে প্রতারণা ও জবরদখলের কারণে সমাজে সৃষ্টি হয় শত্রুতা, মামলা-মোকদ্দমা, এমনকি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটে। পরিবারে ফাটল ধরে, ভাই-ভাই পরস্পরের শত্রু হয়ে যায়। এসব অনৈতিক কাজের ফলে কারও অন্তরে শান্তি থাকে না, বরং সারাজীবন আতঙ্ক, সন্দেহ ও সামাজিক ঘৃণার মধ্যেই কাটে।

কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ কারো হক নষ্ট করাকে ছোট বিষয় হিসেবে দেখবেন না। বিশেষ করে জুলুম বা অন্যায়ের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারীরা সেখানে কোনো সুপারিশ বা ক্ষমার সুযোগ পাবে না, যদি ভুক্তভোগী তাদের ক্ষমা না করে।

আসুন, আমরা জমি বা সম্পদ নিয়ে প্রতারণা, জবরদখল ও জুলুম থেকে দূরে থাকি। নিজেও শান্তিতে থাকি, অন্যকেও শান্তিতে থাকতে দিই। কারণ দুনিয়ায় জমি দখল করা সহজ হলেও, আখেরাতে সেটার হিসাব দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।