পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বানে তারুণ্যের ফ্ল্যাশ মব ও শোভাযাত্রায় শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘রিনিউবেল এনার্জি ফেস্ট ২০২৫’।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো যৌথভাবে এমন আয়োজন করেছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি)।
‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার উৎসবের প্রথম দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ফ্ল্যাশ মব ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। যুবসংঘের ২০ জন সদস্য ফ্ল্যাশ মবে অংশ নেন। পরে দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট ঘুরে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত করা হয় পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা।
‘আমাদের দূষণ নয়, সবুজ শক্তির প্রয়োজন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, ক্লাইমেট জাস্টিস’সহ নানা পরিবেশবান্ধব সেøাগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তরুণরা। এ সময় জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ডাক দেওয়া হয়।
পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন আয়োজকরা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারিভাবে বড় উদ্যোগের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কার্যকর করতে পারলে, একদিকে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উঠবে দেশ, অন্যদিকে বাড়বে কর্মসংস্থান।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রতিষ্ঠানটির জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এই উৎসবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য-সংলাপ ও উদ্ভাবনী মেলার মাধ্যমে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদ্ভাবন তুলে ধরা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উদ্ভাবন মেলা ও ইয়ুথ হাব তরুণদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। সমাপনীতে স্থানীয় উদ্ভাবকদের আইডিয়া উপস্থাপন এবং সেরা উদ্ভাবকদের পুরস্কৃত করা হবে। এই উৎসব সবুজ ও ন্যায্য ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।’
টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ফারাহ্ কবির বলেন, ‘আজকের এই ফ্ল্যাশ মব ও শোভাযাত্রা প্রমাণ করে যে আমাদের যুবসমাজ একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ চায়। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ থেকে মুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণে সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই উৎসব সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
দেশে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এ সময় সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক এম এ এ শওকত চৌধুরী এবং ইডকল, সিটি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের কার্যক্রম জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল উৎসবের মূল আকর্ষণ থাকবে বুয়েট ইসিই ভবন চত্বরে অনুষ্ঠেয় ‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলা’ এবং ‘ইয়ুথ হাব’ উদ্ভাবন মেলায় দেশীয় উদ্ভাবকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণা প্রদর্শন করা হবে। প্রযুক্তি মেলায় করপোরেট খাতের প্রতিষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হবে। ইয়ুথ হাবে তরুণরা ডায়ালগ, কর্মশালা ও কুইজের মাধ্যমে তাদের ভাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা সবার সামনে তুলে ধরবেন এবং জলবায়ু আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত হবে।
এ ছাড়া এই দুদিনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ডায়ালগ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সেশনগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব, নীতি ও সুশাসন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি, নারীর অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। এসব আলোচনা থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে পেশ করা হবে। উৎসবের শেষদিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে পুরস্কার।