প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম হৃদয় মিয়াজি (২৩)। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানার যুগ্ম সদস্য সচিব। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম পারভেজকে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি হৃদয় মিয়াজিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে, ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ ও আল আমিন সানিকে আটক করে পুলিশ। গত সোমবার তিনজনকে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তাছাড়া এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের স্বার্থে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের রেজিস্ট্রার ক্যাপ্টেন মোবাশ্বের আলী খন্দকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাময়িক বহিষ্কার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের, অন্যজন ইংরেজি বিভাগের। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স। তদন্ত চলাকালে ক্লাসে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মো. জাহিদুল ইসলাম পারভেজের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ত তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তদন্তেঅভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিলসহ প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে তদন্তের স্বার্থে পুলিশি প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
গত ১৯ এপ্রিল প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র পারভেজ পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে পুরি-শিঙাড়ার দোকানে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। তাদের পেছনেই দাঁড়ানো ছিল ইউনিভার্সিটি অব স্কলারসের দুজন ছাত্রী। পারভেজ মেয়েদের দেখে হাসাহাসি করেছে কি না, জানতে চান মেহেরাজ ইসলাম, আবু জর গিফারি পিয়াস ও মাহাথির হাসান নামের তিনজন। পরে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতেই গেটের সামনে পারভেজের ওপর হামলা হয়। তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হলে মারা যান পারভেজ।