ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হজ। এটি শুধু ইবাদতই নয়; বরং তাওহিদ, তাকওয়া, ভ্রাতৃত্ব এবং বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের এক গৌরবময় সম্মেলন। ‘হজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা। শরিয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময়ে কাবা ঘর তাওয়াফ, আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থানসহ কিছু নির্ধারিত আমল আঞ্জাম দেওয়াকেই হজ বলা হয়। তবে এই মহান ইবাদত সবার ওপর ফরজ নয়। বরং হজ ফরজ হওয়ার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত। কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান ৯৭)
এই আয়াতের আলোকে স্পষ্ট হয়, হজ ফরজ হওয়ার জন্য সামর্থ্য থাকা আবশ্যক। এই সামর্থ্যরে ব্যাখ্যায় ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, যে ব্যক্তি কাবা পর্যন্ত যাওয়া-আসার খরচ এবং হজকালে ভরণপোষণের সামর্থ্য রাখে, সেই ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে সামর্থ্যবান। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচও নিশ্চিত করতে হবে। আর দৈহিক সক্ষমতাও থাকতে হবে যেন নিজে হজের রোকনগুলো পালন করতে পারে।
যাদের ওপর হজ ফরজ : এক. প্রাপ্তবয়স্ক ও জ্ঞানসম্পন্ন। দুই. শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম, নিজ দেশ থেকে কাবা পর্যন্ত যাতায়াত, অবস্থানের খরচ বহন এবং পরিবারের প্রয়োজন পূরণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখে। তিন. স্বাধীন হওয়া, রাস্তা নিরাপদ হওয়া। হজপথ এবং সেখানে অবস্থান নিরাপদ ও বাধামুক্ত হওয়া।
যদি কারও কাছে জীবিকার অতিরিক্ত জমিজমা, ফসল বা মালপত্র থাকে এবং তা বিক্রি করলে হজের খরচ হয়, তবে তার ওপর হজ ফরজ হয়। এমনকি চিররোগী হলেও যদি সম্পদ থাকে, তবে অসিয়তের মাধ্যমে বদলি হজের ব্যবস্থা করতে হবে।
মহিলাদের হজ : মহিলাদের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য। তবে তাদের জন্য মাহরাম পুরুষ (যেমন স্বামী, বাবা, ভাই, ছেলে ইত্যাদি) সঙ্গে থাকা আবশ্যক। মাহরাম ছাড়া হজে যাওয়া জায়েজ নয়। মাহরাম না থাকলে জীবদ্দশায় হজ পালন সম্ভব না হলে বদলি হজের অসিয়ত করা ফরজ হবে।
হজে দেরি নয় : হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করতে হয়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি হজ করার নিয়ত করে, সে যেন দেরি না করে তা দ্রুত আদায় করে।’ (আবু দাউদ) মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফরজ হজ যথাসময়ে আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।