মাগুরার সেই শিশু ধর্ষণ-হত্যার বিচার শুরু

দেশব্যাপী আলোচিত মাগুরার ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মাগুরার নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এম জাহিদ হাসান চার আসামির উপস্থিতিতে এ মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন। একই সঙ্গে বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন।

গতকাল মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল প্রসিকিউটোরিয়াল অ্যাডভাইজার (অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদা) অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া জঘন্য বর্বর ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যে কারণে বর্তমান সরকার এ মামলাটিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি সহায়তার জন্য নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া তিনি মামলার বিভিন্ন আইনি বিষয়ে বক্তব্য দেন।

এ সময় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মুকুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান, এম এ রশিদ, কুমুদরঞ্জন বিশ্বাস, মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পিপি মনিরুল ইসলাম মুকুল আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। এ সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রধান আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এবং ২ ধারা, আসামি সজিব শেখ ও রাতুল শেখের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৫০৬-এর ২ ধারা এবং হিটু শেখের স্ত্রী জাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে দ-বিধির ২০১ ধারায় চার্জ গঠন করেন। পাশাপাশি বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার শুনানির দিন ঠিক করে রাষ্ট্রপক্ষকে মামলার ১ থেকে ৩ নম্বর সাক্ষীকে উপস্থাপন করার জন্য নিদের্শ দেন। শিশুটির মা ও বাবাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত আসামিদের কাছে জানতে চায় মামলা পরিচালনায় নিজেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে চান কি না এ বিষয়ে আসামিরা আদালতের কাছে নিজেদের পক্ষে সরকারিভাবে আইনজীবী নিয়োগ চান। বিচারক তাদের কারাগার থেকে আইনজীবী নিয়োগের জন্য আবেদন করতে বলেন।

শ্রীপুর উপজেলার আট বছরের শিশুটি ১ মার্চ মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বড় বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে। সেখানে গত ৬ মার্চ সে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। সবশেষ চিকিৎসারত অবস্থায় ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটি মারা যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় মেয়ের শ্বশুর হিটু শেখ, জামাতা সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা রোকেয়া বেগমের নামে মামলা করেন। পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। ১৩ এপ্রিল আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন। আসামি রোকেয়া বেগমকে তথ্য গোপন, সজিব শেখ ও তার ভাই রাতুল শেখের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।