অনলাইনে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ পর্যবেক্ষক সংস্থা অফকম। সংস্থাটির ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ বছরের জুলাই থেকে শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মকে আইনগতভাবে বাধ্য করা হবে। অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে তাদের। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জরিমানা বা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।
ইতিমধ্যে গত সোমবার শিশুদের ব্যবহৃত সাইট ও বিভিন্ন অ্যাপের ওপর ৪০টিরও বেশি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে অফকম। যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সার্চ ও গেমিং কোম্পানিও। এসব পদক্ষেপের আওতায় ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ সেবার মধ্যে রয়েছে বড় বড় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এসব কোম্পানিকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে কার্যকরভাবে বয়স পরীক্ষা করতে হবে। ব্যবহারকারীদের কাছে কনটেন্ট রেকোমেন্ড করে এমন অ্যালগরিদম থেকে ক্ষতিকর উপাদান ফিল্টার করতে হবে এবং সব সাইট ও অ্যাপে থাকা বিপজ্জনক কনটেন্ট দ্রুত সরানোর পদ্ধতি থাকতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের কনটেন্ট রিপোর্ট করার জন্য অবশ্যই একটি ব্যবহারবান্ধব উপায় থাকতে হবে।
অফকমের প্রধান নির্বাহী মেলানি ডাউস বলেছেন, শিশুদের অনলাইনে প্রবেশের জন্য এটি ‘রিসেট’ হিসেবে কাজ করবে এসব পরিবর্তন এবং যেসব কোম্পানি এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হবে তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। তিনি বলেছেন, এর মানে হচ্ছে, ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক কনটেন্ট নেই শিশুদের জন্য এমন নিরাপদ সামাজিকমাধ্যম ফিড, অপরিচিতদের সংস্পর্শে আসা থেকে এদের সুরক্ষা দেওয়া ও প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ওপর কার্যকর বয়স যাচাইকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে।
অফকমের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত শিশুদের জন্য দাতব্য সংস্থা ‘এনএসপিসিসি’। একই সঙ্গে এটিকে ‘অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত’ বলেও বর্ণনা করেছে তারা।
এর আগে, চলতি বছর শিশুদের মানসিক সুরক্ষা ও নেতিবাচক প্রভাবের বলয় থেকে মুক্ত রাখতে স্কুলশিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার অফকমের এই ঘোষণা অভিভাবকদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথ মনিটরিং ও পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে দূরে রেখে তাদের বেড়ে ওঠা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা হোক।