বরিশালে বর্ষা শুরু হতেই নগরীর একাধিক সড়ক ভেঙে পড়েছে। নানা অজুহাতে সংস্কারকাজ ঝুলে থাকায় অন্তত এক ডজন সড়ক এখন খোঁড়াখুঁড়ির কর্দমাক্ত দুর্ভোগে নিমজ্জিত। চরম ভোগান্তিতে পড়া নগরবাসী দ্রুত মেরামত চেয়ে বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, নগর ভবনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের অবহেলা এবং উদাসীনতাই এই দুরবস্থার জন্য দায়ী।
বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) সূত্র বলছে, ঠিকাদারদের বর্ষার আগেই কাজ শেষ করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে টেন্ডার বাতিলের পাশাপাশি বিলও আটকে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নগরীর কাজীপাড়াসংলগ্ন সিডিবি সড়কের সংস্কারকাজ চললেও, রাস্তার পাশে এক ডজন অবৈধ দোকান থাকায় সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী অভিযোগ জানালে সিটি করপোরেশন সম্প্রতি অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালায়। তবে বাধার মুখে অভিযান বন্ধ হয়ে যায় আর সেই থেকে রাস্তার কাজও থমকে গেছে।
এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভও করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্ত না করলে একটু বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এখনই সংস্কার শেষ না করলে বর্ষা জুড়েই ভোগান্তি চলবে।’
এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হজরত কালু শাহ সড়কের। মাসের পর মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখায় সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। যান চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এই অবস্থার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কালু শাহ সড়কের বাসিন্দারাও মানববন্ধন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জি এম আতায়ে রাব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কালু শাহ সড়কের মিরাবাড়ি পুল পর্যন্ত রাস্তা প্রায় অচল। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাফেরা অসম্ভব। এখনই সংস্কার শেষ না করলে পুরো বর্ষা নাগরিক দুর্ভোগের মরণফাঁদ হবে।’
নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ী মসজিদসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের শাখা সড়কের অবস্থাও করুণ। প্রায় শেষপর্যায়ে এসে কাজ থেমে আছে। জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকেই ঠিকাদার কাজ ফেলে উধাও। ফলে নির্মাণাধীন ড্রেনেজ সিস্টেম ও রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ জানান, ‘একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়, ড্রেনের কাঠামো ভেঙে পড়ছে। এখন ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপে এলাকা ডুবে যাবে।’
এ ছাড়া গোরস্তান রোড, জিয়ানগর, নতুন বাজার খালপাড় মোড়, হরিনাফুলিয়া, পোর্ট রোড, জিয়া সড়কসহ অন্তত এক ডজন সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পরিবর্তনের পর বেশ কিছু ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘বর্ষার আগে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যারা দেরি করছে, তাদের বিল আটকে টেন্ডার বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ের চলমান সংস্কার প্রকল্পগুলোর টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।