প্লট গ্রহণে অনিয়ম

হাসিনাসহ ২২ জনের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন ১২ মে

রাজউক থেকে ৩০ কাঠা প্লট গ্রহণসহ তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১২ মে ধার্য করেছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না, সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করে।

গতকাল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল, পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ১০ এপ্রিল আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তিন মামলার মধ্যে একটিতে শেখ রেহানাকে, আরেকটিতে তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও অন্য মামলায় মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগী আসামি করা হয়। তিন মামলায় আসামি ৫৩ জন।

মামলার অন্য আসামি হলেন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্ত প্রাপ্তে আসামি শেখ হাসিনার একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

শেখ হাসিনাসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা : জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় জড়িত থাকা ও প্ররোচনার অভিযোগে এবার পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা করেছে নিহতের পরিবার।

গত ৫ আগস্ট মিরপুরে শেখ হাসিনার পতনের আগ মুহূর্তে মাহফুজুল আলম শ্রাবণকে (২১) গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সবার সম্পৃক্ততা ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের ধরন উল্লেখ করে ঢাকার সিএমএম কোর্টে মামলাটি দায়ের করেন নিহত শ্রাবণের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী।

নিহত শ্রাবণের বাবার নাম মোশাররফ হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার দোগাছী এলাকায়। তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন। গত ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিলে আসামিরা তাকে মিরপুর থানার সামনে গুলি করে হত্যা করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত শ্রাবণের শরীরে একাধিক গুলি এফোঁড় ওফোঁড় করে বেড়িয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করেন। শ্রাবণ নিহতের ৯ মাসের মাথায় গত ২০ এপ্রিল বড় ভাই আদালতে বাদী হয়ে এই মামলা করেন। গতকাল রবিবার সকালে আদালত সূত্রে এই মামলার তথ্য জানা যায়।

মিরপুর থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে মিরপুর থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে। বর্তমানে মামলাটি মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন তদন্ত করছেন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মিরপুর থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেন।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলার আসামি সংখ্যা ৪০৮ জন। এর মধ্যে বিগত সরকারের মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা এবং শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল, সালমান রহমান, হাছান মাহমুদ, নসরুল হামিদ বিপুকে মামলার আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক তিন আইজপি, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার সাবেক পুলিশ কমিশনারসহ শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।