অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে অন্তত আরও ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। ফলে গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের মোট সংখ্যা ৫২ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) আল জাজিরা ও বার্তাসংস্থা আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, রোববার গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরের দিকেও ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় আরও ১৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
পৃথক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ২৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৯ জনে। নতুন করে আহত ১১৫ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে রয়েছেন, যাদের কাছে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ৬৯৭ জনের নাম তাদের তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পর রেজিস্ট্রিতে যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর প্রায় দু'মাস গাজায় তুলনামূলক শান্তি বজায় থাকলেও সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফের ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা শুরু করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৯৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে গাজায় চালানো আগ্রাসনের দায়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।