চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের নেতৃত্বে ১০০ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। এ বিষয়ে ঢাকা সফররত চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের আলোচনা হয়েছে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মহাপরিচালক চীনের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, চীন এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে তাদের পাশে থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফর এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করে সফররত মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি বলেন, পেং শিউবিন আরও বলেন, চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার, অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করতে কাজ করবে।
প্রতিবেশী কূটনীতির অংশ হিসেবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি চীনের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পেং শিউবিন বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে যোগাযোগ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সিপিসি থিঙ্ক ট্যাংক এবং শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারিত করার জন্য উন্মুখ।
এর আগে বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সম্প্রতি শেষ হওয়া বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৫-এর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি বড় প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবে। বিনিয়োগ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের যেভাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্বন্ধে ধারণা দেওয়া হয়েছে চীনের ব্যবসায়ীরাও এ ধরনের সমর্থন আশা করে বিডার চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। বিডার চেয়ারম্যান জানান, তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বিভিন্ন বিনিয়োগবান্ধব জোনগুলো পরিদর্শন করার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল।
এদিকে পররাষ্ট্র সচিব এক চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার চীন সফরে তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন, যার ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছে। কুনমিংয়ের বাংলাদেশি রোগীদের বিশেষ চিকিৎসাসুবিধা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র সচিব চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০০ জনেরও বেশি সদস্যের চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের আসন্ন সফর দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।
চীনের এই প্রতিনিধিদলের সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশীয় বিনিয়োগকারীরা। বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেশের শিল্পখাতের আরও অগ্রগতি সাধিত হবে বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় উদ্যোক্তারা সবসময়ই বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। তবে সে বিনিয়োগ যদি তৈরি পোশাক শিল্পে আসে, তাহলে এ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে যেন আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ তৈরি পোশাকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে বাংলাদেশের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। তাই এ খাতে যদি বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তাহলে সার্বিকভাবে দেশ উপকৃত হবে।’