মৌলিক সংস্কারে একমত এনসিপি ও গণসংহতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ও গণসংহতি আন্দোলন। বৈঠকে উভয় দল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আওয়ামী লীগের বিচার, গণপরিষদ নির্বাচন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে কমিশন গঠন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমা, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা নিয়ে। যদিও কিছু বিষয়ে দুই দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও কিছু বিষয়ে দ্বিমতও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা।

গতকাল রাজধানীর বাংলা মোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অধিকতর সমঝোতা ও ঐক্য তৈরি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ে আলোচনায় বসে দলটি।

বৈঠক শেষে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের জনগণের যে আকাক্সক্ষা নতুন একটা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হবে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক যাত্রায় হাঁটবে সেই লক্ষ্যেই আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমরা কীভাবে এই গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্পন্ন করতে পারি, সে বিষয়ে কথা হয়েছে। একদিকে যেমন জনআকাক্সক্ষা আছে সংস্কারের জন্য, তেমনি আমরা চাই সত্যিকার অর্থে জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হোক। যাতে জনগণের হাতে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে এবং সবাই জনগণের অধীনেই থাকে। সেই কাঠামো রাষ্ট্রীয়ভাবে কীভাবে তৈরি করা যায়, সেটি ছিল আলোচনার বিষয়।

আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগের যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, ১৫ বছরের গুম, খুন, হামলা-মামলা, লুটপাট এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের দৃশ্যমান বিচার আমরা দেখতে চাই। আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও আমরা বিচারের আওতায় দেখতে চাই। আমরা চাই, সংস্কারের একটি জাতীয় ঐকমত্য দ্রুত তৈরি হোক। সেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়েও একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই। কারণ, একটি স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট অপরিহার্য।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি যে বিচার, মৌলিক সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলছে, তার অনেকগুলো এজেন্ডার সঙ্গেই গণসংহতি আন্দোলন একমত, কিছু জায়গায় দ্বিমতও রয়েছে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচনের আগে সংস্কার কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, রাষ্ট্র পুনর্গঠন-সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার বা নতুন সংবিধানের কথা বলছি, এই আলোচনাগুলো গণসংহতি আন্দোলন জনপরিসরে দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এখন যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রত্যাশা আমরা করি, সেগুলো আসলে গত ১৬ বছরে এসব আলোচনা ও তৎপরতার ধারাবাহিকতায়।

করিডর নিয়ে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন : জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘করিডর নিয়ে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন। মানবিক করিডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।’ গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের সুযোগ নেই। দেশ জুড়ে আবারও চাঁদাবাজিসহ পুরনো সংস্কৃতি ফিরে আসছে। এগুলো প্রতিহত করা হবে।’

অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচনের সুযোগ নেই। ইসলামী আন্দোলন প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায়।’

আগামী নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর একটি বাক্স রাখার ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ রেখে কাজ করতে হবে। এ সময় প্রশাসনে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে।’

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একতা ভাঙার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’